খাদ্য আঁশের প্রকারভেদ

খাদ্য আঁশের প্রকারভেদ

blog-pic-392

লিখেছেনঃ ডা. কামরুল আহসান, শিশু বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল, ঢাকা। (অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

প্রতিদিনের খাবারে কম-বেশি আঁশ আমরা সবাই খাই। বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের মধ্যেই মিশে থাকে এই আঁশ বা Dietary fiber। এসব খাবারের পুষ্টিমান নেই। অথচ সুস্বাস্থ্যের জন্য এটি অতীব প্রয়োজনীয়। আমাদের পরিপাকতন্ত্রে আঁশকে পরিপাক করার জন্য কোনও পাচকরস নাই। সম্পূর্ণ অ-পরিপাককৃত এবং অবিশোষণ-যোগ্য অবস্থায় এটি মলের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেই মূলত ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশের জোগান আসে। রাসায়নিক ভাবে খাবারের আঁশ হচ্ছে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন ইত্যাদি। সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ হচ্ছে এক ধরনের শর্করা। কিন্তু এ শর্করা ভেঙ্গে বা পরিপাক করে শোষণ যোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মতো কোনও পাচকরস মানব দেহে নেই। শুধু পৌষ্টিকনালির (Peristalsis) মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয় মাত্র।

ধরনঃ 
পানিতে দ্রাব্যের উপর ভিত্তি করে আমরা যে আঁশ খাই, তাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়- ১) দ্রবণীয় আঁশ (soluble fiber), ২) অদ্রবণীয় আঁশ (Non Soluble fiber)। সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন হচ্ছে অদ্রবণীয় আঁশ। পেকটিন, মিউসিলেজ হলও দ্রবণীয় আঁশ। একই ধরনের খাদ্যে দ্রবণীয় অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ থাকতে পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য এই দুই ধরনের আঁশই আমাদের প্রয়োজন।

উৎস:
শস্য জাতীয় খাবার, শাক-সবজি, ফল, শিম ও ডাল জাতীয় খাবার এবং বাদাম আঁশের ভালো উৎস। প্রাণীজ খাবারে কোনও আঁশ নেই।

# শস্য জাতীয় খাবার- ঢেঁকি ছাঁটা চাল, ভুসি যূক্ত আটা।
# শাক-সবজি- পুইশাক, পালংশাক, লালশাক, কচু শাক, শজনে, টমেটো, শসা।
# ফল- আপেল, কলা, পেয়ারা, জাম, নাশপাতি, কমলা, কিশমিশ, বরই, খেজুর, কতবেল, সফেদা, কাঁঠাল।
# শিম ও ডাল- শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, ছোলা।
# বাদাম- চীনাবাদাম।

ভুসি যুক্ত শস্যতে পরিশোধিত শস্যের চেয়ে বেশি আঁশ থাকে। যেমন- ঢেঁকি ছাঁটা ভুসি যুক্ত চালের ভাত, ভুসি যুক্ত লাল আটার রুটি, ব্রাউন ব্রেড, ভুসি যুক্ত কর্নফ্লেক্সে মেশিনে ছাঁটা ভুসি হীন চালে ময়দার তৈরি রুটির তুলনায় বেশি আঁশ থাকে। খোসাসহ ফলে আঁশের পরিমাণ খোসাবিহীন ফলের চেয়ে বেশি। কাঁচা ফল বা কাঁচা সবজিতে পাকা ফলের থেকে বেশি আঁশ থাকে। পাকলে খাদ্যে আঁশের পরিমাণ কমে যায়। খোসাসহ খাবার ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভালো উৎস। ভুসি যুক্ত চালে থিয়ামিন (B1), রিবোফ্লাভিন (B2), আয়রন ও জিঙ্ক থাকে। তাজা সবজি বা ফলের সালাদেও পাওয়া যাবে ভালো পরিমাণে আঁশ। ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, যেসব খাবারের প্রতি ১০০ গ্রামে অন্তত ৬ গ্রাম আঁশ থাকে তা উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ৩-৬ গ্রাম আঁশ থাকলে মধ্যম আঁশযুক্ত খাবার  এবং ৩ গ্রামের কম আঁশ থাকলে তা হবে নিম্ন আঁশযুক্ত খাবার।
অদ্রবণীয় আঁশ পানি-গ্রাহী (Hygroscopic)। বৃহদান্ত্রে এরা পানি ধরে রাখে। ফলে মল নরম থাকে। দ্রবণীয় আঁশ বৃহদান্ত্রে ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে ভেঙ্গে গ্যাস ও অন্যান্য উপজাত তৈরি করে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না। লেখা সংক্রান্ত কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে ব্লগের নিচে “Leave a Reply” সেকশনে বিস্তারিত লিখুন।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *