শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি লিভারের অসুখ

শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি লিভারের অসুখ

blog-pic-374

অনেক সময়েই শিশুরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় অস্বাভাবিক রকম পেট ফুলে যাওয়া এবং শরীর শুকিয়ে যাবার সমস্যা নিয়ে। কারও সাথে জণ্ডিস থাকে আবার কারও পূর্বে জণ্ডিস হয়েছিল এমন ইতিহাস থাকে। এ শিশুগুলোর সম্ভাব্য রোগ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের অসুখ; বিশেষ করে সিরোসিস অফ লিভার।

কি কি কারণে এই রোগ হয়ে থাকে?
১. অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।
২. দীর্ঘমেয়াদি লিভারের প্রদাহ যদি থেকে থাকে, বিশেষত হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস দিয়ে।
৩. কিছু মেটাবলিক অসুখ, যেমন : উইলসন’স ডিজিজ, আলফা-ওয়ান এন্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সি ইত্যাদি।
৪. অটোইমিউন লিভার ডিজিজ
৫. বিলিয়ারি এট্রেশিয়া ইত্যাদি।

কি কি উপসর্গ থাকে?
১. দুর্বলতা
২. খাবারে অরুচি
৩. পেট ধীরে ধীরে ফুলে যাওয়া (পেটে পানি জমে যায়)
৪. পেটের শিরাগুলো ফুলে গিয়ে দৃশ্যমান হয়ে পড়া
৫. শরীর শুকিয়ে যাওয়া
৬. গা ম্যাজম্যাজ করা
৭. বমি বমি ভাব
৮. রক্তবমি
৯. আলকাতরার ন্যায় কালো পায়খানা
১০. পেটের ভেতরে প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া
১১. লিভার বেশি বড় হয়ে যাওয়া অথবা বেশি ছোট হয়ে যাওয়া
১২. হাতের তালু লালচে হয়ে যাওয়া
১৩. মাকড়সার জালের মতো আকৃতির লাল বর্ণধারণ শরীরের বিভিন্ন জায়গায়
১৪. নখ সাদা হয়ে যাওয়া
১৫. ছেলেদের স্তন বড় হয়ে যাওয়া
১৬. অণ্ডকোষ নরম ও ছোট হয়ে যাওয়া
১৭. ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যাঘাত ঘটা
১৮. অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যাওয়া
১৯. অচেতন হয়ে যাওয়া
২০. হাত কাঁপা
২১. মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসা
২২. গভীর কোমায় চলে যাওয়া ইত্যাদি।

কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়?
ক. লিভার ফাংশন টেস্ট
খ. পরিপাকতন্ত্রের উপরিভাগের এন্ডোস্কোপি
গ. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
ঘ. লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাফি
ঙ. ভাইরাল মার্কার্স : হেপাটাইটিস বি,সি,ডি।
চ. রক্তে সেরুলোপ্লাসমিনের মাত্রা
ছ. রক্তে ইলেক্ট্রোলাইটস এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা
জ. টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স ইউরিনারি কপার লেভেল
ঝ. লিভার বায়োপসি : এই টেস্ট দিয়ে রোগটি নিশ্চিত করা যায়।

চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
– প্রথমেই রোগীর মা-বাবাকে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়, এর চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়, সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে জানানো হয়,  এ রোগের আরোগ্য সম্ভাবনার কথাও বলা হয়।
– কি কারণে রোগীর এই রোগটি হয়েছে সে কারণের চিকিৎসা করা হয়।
– যদি দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে, তবে ইন্টারফেরন এবং ল্যামিভুডিন এ দুটো ওষুধ যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়।
– যদি দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে, তবে আই এন এফ- আলফা এবং রিবাভিরিন এ দুটো ওষুধ যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়।
– অটোইমিউন হেপাটাইটিস থাকলে প্রেফিনিসোলোন এবং এজাথায়োপ্রিন আলাদাভাবে অথবা যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়।
– উইলসন’স ডিজিজ থাকলে পেনিসিলামাইন/ট্রাইয়েন্টিন/এলুমিনিয়াম টেট্রাহায়োমোলিবডেট এবং জিঙ্ক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
– তবে লিভার প্রতিস্থাপন করা গেলে এ রোগে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

আরোগ্য সম্ভাবনা কেমন?
– লিভার প্রতিস্থাপন না করা হলে, লিভার ফেইলিউর হয়ে রোগী ১০-১৫ বছরের মধ্যে মারা গিয়ে থাকে।
– লিভার প্রতিস্থাপন করা হলে, দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৭০-৯০%।

# উল্লেখ্য কোন ধরনের চিকিৎসা আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে তার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও সিরিয়াল নিতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন 16484 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন www.doctorola.com। 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *