বাতজ্বর বা একিউট রিউম্যাটিক

বাতজ্বর বা একিউট রিউম্যাটিক

blog-pic-373

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাতজ্বর বা একিউট রিউম্যাটিক ফিভার রোগটি সচরাচরই শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। যদি এ রোগটি সঠিক সময়ে নির্ণয় না করা যায় বা সঠিকভাবে চিকিৎসা না করা যায় তবে ভবিষ্যতে মারাত্মক হৃদপিণ্ডের অসুখ হবার সম্ভাবনা থাকে।

কাদের হয়ে থাকে?
৫-১৫ বছর বয়সী শিশুদের এ রোগ হয়ে থাকে সাধারণত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ শুরু হবার ২-৪ সপ্তাহ আগে রোগীর গলায় ইনফেকশন হবার ইতিহাস থাকে, যা গ্রুপ-এ বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। এ রোগ নির্ণয়ে কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে?

মেজর ক্রাইটেরিয়া :
১. সাধারণত বড় জয়েন্টগুলোতে একসাথে অনেকগুলো প্রদাহ হয়, একে পলিআর্থ্রাইটিস বলা হয়।
২. হৃদপিণ্ডের প্রদাহ
৩. শরীরের বিভিন্ন অংশের অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া (সিডেনহাম’স কোরিয়া)
৪. ত্বকের নিচে ফোলা ফোলা দেখা দেওয়া
৫. শরীরের বিভিন্ন অংশ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

মাইনোর ক্রাইটেরিয়া :
– জ্বর
– জয়েন্টে ব্যথা
– সি আর পি, ই এস আর ইত্যাদি বেড়ে যাওয়া (এক ধরনের রক্ত পরীক্ষা)
– ইসিজিতে পি-আর ইন্টারভাল বেড়ে যাওয়া (যা চিকিৎসক ইসিজি দেখে নির্ণয় করবেন)

যদি কোনও রোগীর মধ্যে ২টি মেজর ক্রাইটেরিয়া অথবা ১টি মেজর ক্রাইটেরিয়া এবং দুটো মাইনর ক্রাইটেরিয়া এবং সাথে গ্রুপ-এ স্ট্রেপটোকক্কাল ইনফেকশনের চিহ্ন পাওয়া যায় তখন তাকে একিউট রিউম্যাটিক ফিভারের রোগী বলা যাবে।

কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়?
১. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
২. সি আর পি
৩. বুকের এক্স-রে
৪. ইসিজি
৫. ইকোকার্ডিওগ্রাফি
৬. থ্রোট সোয়াব ফর কালচার ইত্যাদি। (গলা থেকে নমুনা নিয়ে জীবাণুর পরীক্ষা করা)

কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?
– প্রথমেই রোগীর মা-বাবাকে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়, এর চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়, সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে জানানো হয়, এ রোগের আরোগ্য সম্ভাবনার কথাও বলা হয়।
– বেড রেস্ট।
– যে জয়েন্টে ব্যথা সে জয়েন্ট যেন নড়াচড়া না করা হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হয়।
– এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় : ফেনোক্সিমিথাইল পেনিসিলিন/ ইরাইথ্রোমাইসিন/ বেনজাথিন পেনিসিলিন।
– এন্টিইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ দেওয়া হয় : এসপিরিন, কর্টিকোস্টেরয়েড। (প্রদাহ প্রতিরোধক ওষুধ)

প্রতিরোধ:
উপরিউক্ত লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া মাত্রই একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রোগটি নির্ণয় করতে হবে কারণ নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে এই রোগ এবং এর অন্যান্য জটিলতা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যায়।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও সিরিয়াল নিতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন 16484 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন www.doctorola.com। 
 

2 Comments

  1. nurul amin says:

    প্রীয় এডমিন আমার স্ত্রীর ৩ বচর যাবত মেনয হয়না। কিছুদিন আগে সে গুরুতর অসুস্হ হয়ে পড়ে এবং ২ মাস যাবত হাসপাতালে থেকে অপারেশনের মাধ্যমে সুস্হ হয়ে বাড়ী আসে। কিন্তু এখনও তার মেনয হচ্ছেনা। এখন কি করব জানিয়ে উপকৃত করবেন।

    • আপনার স্ত্রীর বয়স কত না জেনে আসলে কিছু বলা যাচ্ছে না। একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *