কোমর ব্যথা হলেই কিডনির সমস্যা নয়

কোমর ব্যথা হলেই কিডনির সমস্যা নয়

blog-pic-356

আমাদের বেশীরভাগ মানুষের মধ্যে ভীতি আছে কোমরে ব্যথা হচ্ছে ভাবছেন কিডনির কারণে হচ্ছে না তো ? হাঁ কিডনিতে পাথর বা কিডনির সমস্যা হলেও কোমর ব্যথা হতে পারে কিন্তু এর সংখ্যা খুবই কম তবে কোমর ব্যথার অনেকগুলি কারণের মধ্যে এটিও একটি তাছাড়াও বিভিন্ন কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে। যেমন-কোমর ব্যথা হলেই কিডনির সমস্যা নয়!!

ম্যাকানিক্যাল ব্যাক-পেইন বা পশ্চার জনিত কোমর ব্যথা:
এই পশ্চার জনিত কোমর ব্যথা বা মেকানিক্যাল ব্যাকপেইনে ৮০ শতাংশ  মানুষ ভুগে থাকে যারা একাধারে দীর্ঘক্ষণ বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করে তাদের এই ধরনের সমস্যা বেশী দেখা দেয়। যেমন- মাসল-ম্পাজম বা মাংসপেশির সংকোচন, মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি।

লাম্বার স্পনডাইলোসিস:
এটি মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলির ক্ষয়জনীত রোগ এখানে মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলি ক্ষয় হয়ে দুইটি কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা স্পেস কমে যায় পাশাপাশি কশেরুকাগুলির সাথে ছোট ছোট নতুন হাঁড়ের সৃষ্টি হয়, যাকে অষ্টিওফাইট বলে, স্পাইনাল নার্ভগুলির উপর চাপ দেয় যার ফলে কোমরে ব্যথা অনুভব হয়।

লাম্বার স্পনডাইলোলিসথেসিস :
আমাদের মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলি একটি নির্দিষ্ট এলাইনমেন্ট বা অবস্থানে থাকে যখন কোন কারণে এই কশেরুকাগুলির এক বা একাধিক কশেরুকা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায় তখন এই সমস্যাটিকে লাম্বার স্পনডাইলোলিসথেসিস লা হয়, এর ফলে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়।

এনকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস:
এটি একটি মেরুদণ্ডের বাত রোগ এর ফলে মেরুদণ্ডটির স্বাভাবিক বক্রতা নষ্ট হয়ে সোজা হয়ে যায় পাশাপাশি একটি কশেরুকা অন্যটির সাথে ফিউজড বা জমাট বেঁধে যায় যার ফলে রোগীর মেরুদণ্ডের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া কমে যায় যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাড় ও কোমরের রেঞ্জ অব মোশন বা মুভমেন্ট কমে যায়।

পি এল আই ডি বা ডিস্ক-প্রলেপস:
আমাদের মেরুদণ্ডের গঠন অনুযায়ী প্রত্যেকটি কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানে পেশীর ন্যায় সেমি এলিড এক ধরনের পদার্থ থাকে সেটিকে মেডিকেল পরিভাষায় ডিস্ক বলে। এটির মাঝখান থেকে স্পাইনাল নার্ভগুলি বের হয়ে রুট অনুযায়ী হাত ও পায়ের দিকে যায় যখন এই ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায় তখন এটিকে ডিস্ক প্রলেপস বলে। এই ডিস্ক সরে গিয়ে মেরুদণ্ডের উপর চাপ পড়ে তখন ব্যথা অনুভূত হয়।

অষ্টিও পোরোসিস বা হাঁড়ের ভঙ্গুরতা জনিত কোমর ব্যথা:
এটি হাড়ের ক্ষতজনিত রোগ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেমন আমাদের চুল পেঁকে যায় তেমনি হাঁড়ের ভিতরের উপাদানগুলি কমে যায় যার ফলে বোন মিনারেল ডেনসিটি কমে যায় তখন হাড়গুলি ভঙ্গুর হতে থাকে। কোমরের মেরুদণ্ডের হাড়গুলি যখন অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয় তখন কোমর ব্যথা অনুভূত হয়।

স্পাইনাল টিউমার বা ক্যানসার :
আমাদের মেরুদণ্ডের লাম্বার স্পাইনে বা কোমরের অংশে যদি টিউমার, টিউবারকোলোসিস বা টিবি অথবা ক্যানসার হয় সে ক্ষেত্রেও কোমর ব্যথা হতে পারে।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল বেশী ভাগ কোমর ব্যথার কারণগুলির উপসর্গ প্রায়ই একই। যার কারণে কোমর ব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোমর ব্যথার সঠিক কারণটি নির্ণয় করে চিকিৎসা নিন কোমর ব্যথা মুক্ত জীবন-যাপন করুন।

লেখক: ডাঃ এম. ইয়াছিন আলী
বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চেয়ারম্যান ও চীফ-কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি,ঢাকা।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও সিরিয়াল নিতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন 16484 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন www.doctorola.com। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *