প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ – Blood in urine (hematuria)

blog-pic-345

প্রস্রাবে রক্তক্ষরণকে ডাক্তারি ভাষায় হেমাচুরিয়া বলা হয়। প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের জন্যেই অনেক চিন্তার বিষয়। প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ অনেক কারণেই হতে পারে। তন্মধ্যে সচরাচর আমাদের দেশে যে কারণগুলো পাওয়া যায় :
১. মূত্র-তন্ত্রে আঘাত
২. মূত্র-তন্ত্রে প্রদাহ
৩. মূত্র-তন্ত্রে যক্ষ্ণা
৪. মূত্র-তন্ত্রে ক্যান্সার
৫. মূত্র-তন্ত্রের অসুখ : গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস
৬. প্রোস্টেট গ্রন্থির মাংসস্ফীতি
৭. পাথর-জনিত কারণ
৮. বংশগত অসুখ, যেমন : সিকেল সেল এনিমিয়া, এলপোর্ট সিন্ড্রোম ইত্যাদি।
৯. অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে কখনও কখনও অতি অল্প মাত্রায় প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে
১০. কিছু ওষুধ,  যেমন : এসপিরিন ইত্যাদি।

প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া ২ ধরনের হতে পারে। যথা :
ক. প্রস্রাবের রঙ চোখে লাল দেখা যাওয়া (প্রচুর রক্তপাত)
খ. প্রস্রাবের রঙ স্বাভাবিক হলেও অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রস্রাবে যে রক্ত দেখা যায় তাকে আণুবীক্ষণিক রক্তপাত (স্বল্প রক্তপাত) বলা হয়।

উপসর্গ কি?
– প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাবার একমাত্র চাক্ষুষ লক্ষণ হচ্ছে গোলাপি, লাল বা কালো রক্তের প্রস্রাব যেটা লোহিত রক্তকণিকার উপস্থিতির কারণে হয়ে থাকে। খুব সামান্য রক্তই লাল রঙের প্রস্রাব তৈরি করতে পারে।
– অনেক সময় প্রস্রাবে রক্তপাতের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।
– আবার কোনও ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ ছাড়াও প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে।
– অনেকক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত শুধুমাত্র অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন :
– যেকোনো সময় প্রস্রাবে রক্ত দেখলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া খুবই জরুরি।
– মনে রাখা প্রয়োজন যে, কিছু ওষুধ, যেমন : ল্যাক্সেটিভ এবং নির্দিষ্ট খাবার যেমন : বিটস, পালং, রঙিন মিষ্টান্ন, জামের মতো রসালো ফল প্রস্রাবের রঙ লাল করতে পারে।
– প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন যদি ওষুধ, খাদ্য এবং ব্যায়ামের কারণে হয়ে থাকে তাহলে সাধারণত এটা এক/দুই দিনের মধ্যেই সেরে যায়।

কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে?
১. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
২. সিটি স্ক্যান
৩. এম আর আই
৪. সিস্টোসকোপি ইত্যাদি।

ডাক্তারের সাথে আনলিমিটেড কথা বলতে ও স্বাস্থ্য সেবা জনিত খরচে ক্যাশব্যাক পেতে ই-স্বাস্থ্য মেম্বার হওন। ক্লিক করুন এখানে।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.