Not Available Date for this Advertisement

সিজারিয়ান সেকশন : অপারেশনের সময় ও অপারেশনের পর

blog-pic-344

রোগী যখন অপারেশন থিয়েটারে
অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে নিয়ে যাবার পর প্রথমত অজ্ঞান/অবশ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এক্ষেত্রে দুটো পদ্ধতি আছে।

১. জেনারেল এনেস্থেশিয়া : এক্ষেত্রে রোগীকে পুরোপুরি অজ্ঞান করে ফেলা হয়। কোনও চৈতন্য-বোধ থাকে না।

২. স্পাইনাল এনেস্থেশিয়া : এ পদ্ধতিতে দেহের নিচের অংশ অর্থাৎ কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ করা হয়। রোগী এক্ষেত্রে চেতন অবস্থায় থাকে। কাজেই মা সন্তান প্রসবের ধাপগুলো ব্যথা-হীনভাবে উপলব্ধি ও অবলোকন করতে পারেন। সন্তান প্রসব হবার সাথে সাথে সন্তানকে তিনি দেখতে পারেন, ছুঁতে পারেন, ঢেলে দিতে পারেন অপত্য স্নেহ-রাশি।

অপারেশনের সময় তলপেটের মাঝামাঝি নির্দিষ্ট জায়গায় আড়াআড়িভাবে  বা লম্বালম্বি-ভাবে কাটা হয়। তারপর সেই কাটা পথের মাধ্যমে জরায়ুর উপর আড়াআড়িভাবে অপারেশন হয়। কাটা অংশের ভেতর দিয়ে জরায়ুর অভ্যন্তরস্থ বাচ্চাকে বের করে নিয়ে আসা হয়।

আজকাল আড়াআড়িভাবেই তলপেটে অপারেশন হয়। এতে কাটা দাগ খুব সহজেই মিলে যায়। পরবর্তী সময় আবার সিজারিয়ান করার প্রয়োজন হলে পূর্ববর্তী কাটা স্থানে আবার অপারেশন করা হয়।

সাধারণত একটি সিজারিয়ান অপারেশন সময় নেয় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। সাধারণ প্রসবে মা প্রায় ১০০ মিলিলিটার রক্ত হারান। অনেকের ধারণা সিজারিয়ান অপারেশনে অনেক রক্তপাত হয়। আসলে সিজারিয়ান অপারেশনে সাধারণ প্রসবের মতোই রক্ত হারান। তবে কিছু কিছু জটিল-ক্ষেত্রে রক্ত জোগাড় করে রাখতে বলা হয়।

অপারেশনের পরঃ

– জেনারেল এনেস্থেশিয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞান ফিরে আসার পর রোগী কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। স্পাইনাল এনেস্থেশিয়ার ক্ষেত্রে রোগী মোটামুটি সচেতন অবস্থাতেই থাকে।

– স্পাইনাল এনেস্থেশিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ৪ ঘণ্টা পরেই রোগীকে তরল জাতীয় খাবার দেওয়া যায়। প্রথমদিকে পানি খেতে দেওয়াই ভালো। পানি না খেলে রোগীর মাথাব্যথা হতে পারে। জেনারেল এনেস্থেশিয়ায় রোগী তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে বলে খাওয়াদাওয়া শুরু করতে একটু দেরি হয়।

– অপারেশনের পর রোগীকে ঢিলেঢালা পরিচ্ছন্ন সূতির কাপড় পরানো উচিত। প্যান্ট জাতীয় পোশাক পরা চলবে না।
– অপারেশনের পর স্বাভাবিক নড়াচড়ায় কোনও বারণ নেই। ২৪ ঘণ্টা পরেই রোগী বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবেন। একটু একটু হাঁটতেও পারবেন। এসময় প্রতিদিন কিছুক্ষণ ধীরে ধীরে হাঁটাহাঁটি করা ভালো। এতে কাটা স্থান দ্রুত জোড়া লাগে।

– অপারেশনের পর প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত কোনোরকম ভারী কাজ করা যাবে না।

– এ সময়ে রোগীকে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। অনেকের ধারণা দুধ বা টক জাতীয় খাবার খেলে সেলাই পাকে। কথাটি ঠিক নয়। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি দুধ খেতে দিতে হবে। এছাড়া কমলা, লেবু, আমলকী জাতীয় ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলও বেশি বেশি খেতে দিতে হবে। এতে ঘা শুকিয়ে যায়।

– অপারেশন হওয়ার ৬-৭ দিন পর সাধারণত সেলাই কেটে দেওয়া হয়।

– অপারেশনের পর রোগীর কাছে দর্শনার্থী না আসাই ভালো। রোগীর বিছানায় অন্য কাউকে বসতে দেওয়া উচিত নয়। দর্শনার্থীরা রোগীর সংস্পর্শে এসে পক্ষান্তরে রোগীকে ইনফেকশন উপহার দেন। কিন্তু এই ব্যাপারগুলো রোগী এবং দর্শনার্থী কেউই উপলব্ধি করতে চান না।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *