Not Available Date for this Advertisement

মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন)

blog-pic-341

মূত্রনালির সংক্রমণ: বৃক্ক (কিডনি) থেকে মূত্র নির্গমনের পথ (এক্সটারনাল ইউরেথ্রাল অরিফিস) পর্যন্ত মূত্রনালিকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। উপরের ভাগের সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে বৃক্কের সংক্রমণ (পায়েলোনেফ্রাইটিস) এবং নিম্নভাগের মধ্যে রয়েছে প্রধানত মূত্র-থলির সংক্রমণ (সিস্টাইটিস) এবং অগ্রমূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউরেথ্রাইটিস)।
সাধারণ ভাবে মূত্রনালির সংক্রমণ বলতে প্রধানত অগ্রমূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউরেথ্রাইটিস)-কেই বোঝানো হয়।

কেন হয়:
– সংক্রমণের কারণ প্রধানত অণুজীব- কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক।
– ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধানত দায়ী ই. কোলাই ( ইশচেরিকিয়া কোলাই)। ই. কোলাই মানুষের পরিপাক তন্ত্রের স্বাভাবিক অণুজীব। তবে পায়ুপথে তা মূত্রনালিতে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটায়। এছাড়াও রয়েছে ক্লেবশিয়েলা, সিউডোমোনাস, স্ট্রেপটোকক্কাই, স্টেফাইলোকক্কাই অরিয়াস, প্রোটিয়াস প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া এবং ক্লামাইডিয়া নামক একধরণের সংক্রমণ-কারী ছত্রাক।
– মূত্রনালিতে অধিক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ এবং কলোনাইজেশন (বংশবৃদ্ধি) করলে, কোন কারণে মূত্রনালির ভিতরে প্রতিবন্ধক (ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার) তৈরি হলে বা সঙ্গমের সময়ে মূত্রনালিতে ক্ষত তৈরি হলেও সংক্রমণ হতে পারে। কিছু যৌন-বাহিত রোগ যেমন গনোরিয়া, সিফিলিসের মাধ্যমেও মূত্রনালিতে সংক্রমণ হতে পারে।

লক্ষণসমূহ: মূত্রনালির সংক্রমণের ক্ষেত্রে যেসকল লক্ষণ দেখা যায়:
– প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া,
– প্রস্রাবের প্রবলবেগ অনুভূত হওয়া কিন্তু সে তুলনায় প্রস্রাব কম হওয়া,
– ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া,
– তলপেটে ব্যথা,
– প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়া,
– ঘোলা প্রস্রাব এমনকি সাথে রক্তও যেতে পারে।

মূত্রনালির উপরিভাগ থেকে বৃক্ক (কিডনি) পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত এলাকা হলেও কখনো কখনো দীর্ঘক্ষণ সংক্রমিত থলিতে (সিস্টাইটিস) মূত্র জমে থাকা (স্ট্রিকচারের কারণে) এবং প্রস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ থেকেও কিডনি সংক্রমণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন-
– কাঁপুনিসহ জ্বর,
– কোমর ব্যথা,
– কিডনির উপরে চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হওয়া,
– বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া।

যাদের বেশি হয়:
– মহিলাদের (বেশি হয়),
– সারকামসেশন (মুসলমানি) না করা পুরুষদের,
– মূত্রনালির অপারেশন, অ্যাক্সিডেন্টে মূত্রনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে,
– মূত্রনালিতে বেশিদিন ক্যাথেটার থাকলে,
– কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে,
– গুড়া-কৃমির সমস্যা থাকলে।

পরীক্ষা নিরীক্ষা:
কিছু সাধারণ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে মূত্রনালির সংক্রমণ ডায়াগনোসিস করা সম্ভব। যেমন-
ইউরিনের রুটিং অ্যান্ড মাইক্রোস্কোপিক এক্সামিনেশন,
ইউরিনের কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট,
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট।

এছাড়া মূত্রনালির প্রতিবন্ধকতা কিংবা অন্যকোন কারণ আছে কিনা জানার জন্য কিছু বিশেষ পরীক্ষা- আলট্রাসনোগ্রাম এবং সি. টি. স্ক্যান করা যায়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:
চিকিৎসকেরা সংক্রমণ নিশ্চিত হবার সাথে সাথে রোগীর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। সাধারণত অ্যানেরোবিক কভারেজ সহ ব্রডস্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি রিপোর্ট হাতে এলে ৩ দিন,৭ দিন বা ক্ষেত্র-বিশেষে ১০-১৪ দিন পর্যন্তও রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। সাথে রোগীকে প্রচুর পানি পান করার জন্য উপদেশ দেয়া হয়। অধিক পরিমাণে জ্বর, বমি কিংবা অন্যকোন উপসর্গ থেকে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন চিকিৎসক।  ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার কিংবা পেরিনেফ্রিক অ্যাবসেস থাকলে সার্জিকাল ট্রিটমেন্টও প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়ঃ
মূত্রনালির সংক্রমণ সাধারণত মহিলাদের বেশি হয়। এমনকি ঘনঘনও হতে পারে। এর কারণ তাদের মূত্রনালির সংক্ষিপ্ত দৈর্ঘ্য এবং পায়ুপথের কাছাকাছি অবস্থান। মলত্যাগের পর পায়ুপথ সামনে থেকে পিছন বরাবর মোছা বা ধৌত করা সংক্রমণের হার অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। এ কথা শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মাসিকের সময় মহিলাদের পরিষ্কার কাপড় বা ন্যাপকিন ব্যবহার করা উচিৎ। এছাড়া পুরুষ, মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই যৌন-বাহিত রোগ থেকে সতর্ক থাকা,প্রয়োজনে কনডম ব্যবহার করা এবং প্রচুর পানি পান করে মূত্র পরিশোধন তন্ত্র সচল রাখা হতে পারে মূত্রনালির সংক্রমণের বিরুদ্ধে বড় সুরক্ষা।

হঠাৎ সংক্রমিত হলে কিংবা সংক্রমণ বারবার ফিরে এলে ( রিকারেন্ট অ্যাটাক) কোনভাবেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ এ সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে কিংবা কিডনিকে সম্পূর্ণভাবে অকেজো (রেনাল শাট-ডাউন) করে দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 016484 নম্বরে।

4 Comments

  1. Abdullah al mamun says:

    Amar prosab besi hoy. Kosto kathinno ache. Komor betha ache ki korbo janale upokrito hotam. Thanks.

    • আপনার কি ডিয়াবেটিস আছে? ডিয়াবেটিস হলে প্রসাব বেশি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য এর জন্য শাক, সবজি, আঁশ জাতীয় ফল মূল বেশি করে খান । আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে হলে সামনা সামনি দেখা দরকার। আপনি একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত চিকিৎসা নিন। অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন ১৬৪৮৪ এ অথবা ভিসিট করুন http://www.doctorola.com এ ।

  2. Hasnine says:

    Goto 3din aage amar proshab korar aage halka rokto gesilo erpor theke majhemajhe proshab clear hoy abar majhe majhe proshab korar shesh somoye gholate proshab hochche etar jonno pharmacy theke 3din neofloxin500 kheyeo kichu parthokko hoyni!

    • আপনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। দেরি না করে একজন নেফ্রলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত চিকিৎসা করুন। অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন ১৬৪৮৪ এ অথবা ভিসিট করুন http://www.doctorola.com এ । আপনাকে যথাযথ সাপোর্ট দেয়া হবে । আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *