Not Available Date for this Advertisement

গর্ভকালীন ত্বকের যত্ন

blog-pic-340

একজন মা তার স্নেহ, ভালবাসা, সময় দিয়ে তার সন্তানকে লালন পালন করেন। মাতৃত্বের যাত্রা শুরু হয় গর্ভাবস্থা থেকে। প্রেগনেন্সি প্রতিটি নারীর জন্য কাঙ্ক্ষিত একটি সময়। আর এই সময়ে দেখা দেয় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। যার প্রভাব ত্বকেই বেশি দেখা যায়। আজকের আর্টিকেল সাজানো হয়েছে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা’দের ত্বকের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে।

ত্বকের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্কঃ
৯০ শতাংশ মহিলার দেখা যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফাটা দাগ, যেহেতু বাড়তি ওজনের বিষয়টি আছে, মা ও সন্তানের ওজন বৃদ্ধির সাথে ত্বক টান টান হতে থাকে আর ড্যামেজ হয় কোলাজেন, ইলাস্টিন। তাই গর্ভকালীন সময়ের শেষের দিকে অথবা সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর স্ট্রেচমার্ক গুলো সৌন্দর্যহানীকর হয়। এ দাগ গুলো একবার হলে ত্বককে পূর্বের টেক্সচারে ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই যারা প্ল্যান করছেন প্রেগনেন্সির শুরুতে স্কিন কেয়ার রেজিম এ লিপিড রেপ্লিনিশিং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

এখন নানারকম  স্ট্রেচমার্ক ক্রিম পাওয়া যায়, এছাড়াও নারিকেল তেল, অলিভ ওয়েল, কোকো বাটার ব্যবহার করা যেতে পারে। গোসলের পর ও রাতে শোয়ার পূর্বে পেট,উরু,কোমরে ক্রিম বা তেল ম্যাসেজ করতে হবে সার্কুলার মোশনে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ হয়, স্ট্রেচমার্কের ঝুঁকি কম থাকে। অ্যাস্থেটিক মেডিসিনের মাধ্যমে এই ফাটা দাগ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, হাইফ্রিকয়েন্সি আলট্রা সাউন্ড বেশ জনপ্রিয়।

ত্বকের পিগমেন্টেশনঃ
এ সময় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেলানিন প্রোডাকশন বেড়ে যায় ত্বকে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের পিগমেন্টরি ডিজঅর্ডার। হঠাৎ করে মুখে, গলায় কালো বা বাদামী যে ছোপ দেখা দেয় এর একটি নাম আছে “মাস্ক অফ প্রেগন্যান্সি”। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানের জন্মের ২/৩ মাসের মধ্যে এ দাগ গুলো চলে যায়। আরবুটিন ল্যাকটিক এসিড যুক্ত স্কিন লাইটেনিং ক্রিম ব্যাবহারের পরামর্শ দেন ডার্মাটোলোজিস্টরা। হাইড্রোকুইনন, রেটিনয়েড ব্যবহার একবারেই নিষেধ। অনেক ক্ষেত্রে মেসতা যদি ২/৩ মাস পর না যায় স্কিন রিজেনারেশন পিল, মাইক্রোনিডলিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব।

ত্বকের ব্রন বা র‍্যাশঃ
প্রেগনেন্সিতে ত্বকের ওয়েল গ্লান্ডগুলো হাইপার অ্যাক্টিভিটির জন্য মুখে,ঘাড়ে, হাতে ব্রন হয়। হরমোনের পরিবর্তন ও ঠিকমত ত্বক পরিষ্কার না করা অ্যাকনি বা পিম্পল এর কারণ। সে জন্য এ বিশেষ সময়টিতে সেবাম রেগুলেটর ক্লিঞ্জার ও ওয়াটার বেজড ওয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার মুখের জন্য ব্যবহার করলে এ সমস্যা গুলো থেকে পরিত্রাণ সম্ভব। জিংক সালফার যুক্ত লোশন বা ইমালশনই যথেষ্ট ব্রণের চিকিৎসায়। গর্ভাবস্থায় ত্বকের আর একটি সমস্যা দেখা দেয় প্রুরাইটিক আর্টিকোরিয়াল প্যাপুলাক্রান্ত প্লাক। পেট, নাভি, উরুতে  লালচে র‍্যাশ সাথে চুলকানো যা অস্বস্তিকর। মাইল্ড টপিকাল স্টেরয়েড এর চিকিৎসা। ডেলিভারির ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে চলে যায়, মা’দের কে আশ্বস্থ করছি ভয়ের কিছু নেই।

চুলের পরিবর্তন:
চুলের আগা ফেটে যাওয়া, চুল পড়া এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন প্রেগন্যান্ট এবং ল্যাকটেটিং মা’রা। খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলের ঘাটতি, নিজের প্রতি উদাসীনতা এ সব কিছু চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আমাদের দেশে অধিকাংশ মা আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া, ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সিতে ভোগেন। তাই মা’দের নিজেদের প্রতি সচেতন হতে হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা আছে।
আমরা অনেকেই জানি না প্রেগনেন্সিতে শরীরের যে পরিবর্তন হয় তাকে টোটাল বডি রিজেনারেশন বলা হয়। তাই এ সময় পুষ্টিকর খাবার, গ্রহণ অ্যান্টিন্যাটাল চেক আপ, মেডিটেশন , হালকা ব্যায়াম ও স্কিন কেয়ারের মাধ্যমে ত্বক থাকবে সুস্থ ও সজীব ভূমিষ্ট করবে সুস্থ শিশু। এ কারণে বলা হয় গর্ভাবস্থায় একজন নারী তার সৌন্দর্যের পূর্ণতা পায়।

লিখেছেনঃ ডাঃ তাওহীদা রহমান ইরিন, কনসালট্যান্ট, ডার্মাটোলজি ও কসমেটোলজি, শিওরসেল মেডিকেল বাংলাদেশ লিঃ।

Subscribe “Doctorola TV” (Online Health Channel)

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

4 Comments

  1. sumon saha says:

    I like

    • সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।। আশা করি সহজে ডাক্তারের খোঁজ ও সিরিয়াল পাইয়ে দেয়ার এই সার্ভিস সকলের উপকারে আসবে (হটলাইন ১৬৪৮৪)।

  2. আমার আপু গর্ববতী,তার মুখে খুব ব্রন উঠেছে ।
    কি করা যেতে পারে?

    • এটিতে ভয়ের কিছু নেই। প্রেগনেন্সিতে ত্বকের অয়েল গ্লান্ডগুলোর হাইপার অ্যাক্টিভিটির জন্য মুখে,ঘাড়ে, হাতে ব্রন হয়। হরমোনের পরিবর্তন ও ঠিকমত ত্বক পরিষ্কার না করা এসব অ্যাকনি বা পিম্পল এর কারণ। প্রচুর পানি পান করতে হবে, ত্বক পরিস্কার রাখতে হবে। এছাড়া সমস্যা বেশী হলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে বাহ্যিক ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *