স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আঁশের ভূমিকা

blog-pic-410

লিখেছেনঃ ডা. কামরুল আহসান, শিশু বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল, ঢাকা। (অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

খাদ্য আঁশ সরাসরি কোনও পুষ্টি না দিলেও পরোক্ষভাবে অনেক রোগের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

স্থুলতাঃ যেসব খাদ্যে আঁশ বেশি, সে সব খাদ্যের ক্যালরি মূল্য কম। তাই যারা স্থূলতা বা ওজনাধিক্যে ভুগছেন অথবা ওজন কমানো যাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে, তারা আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার পাবেন। এতে ক্ষুধার চাহিদাও মেটে আর মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণও কমে। স্থূলতা, আর্থ্রাইটিস বা বাতের রোগ যাদের ওজন বেশি, তাদের জন্য আঁশ সমৃদ্ধ খাবার আদর্শ।

ডায়াবেটিস: খাবারে দ্রবণীয় আঁশ থাকলে তা পাকস্থলী থেকে খাবারের অন্ত্রে প্রবেশের সময় বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার দ্রুত বাড়তে পারে না। এতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস বা অ্যানাল ফিসারঃ অদ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস বা অ্যানাল ফিসার রোগে যারা ভুগছেন তাদের জন্য ওষুধের কাজ করে। যেহেতু আঁশ পরিপাক হয় না, তাই তা প্রচুর পরিমাণ পানি ধরে রাখে। আর এ করণে মল নরম হয়। পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তা বৃহদান্ত্রে চাপের সৃষ্ট করে মল ত্যাগে সহায়তা করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, অ্যানাল ফিসারের রোগীরা স্বস্তি পান।

উচ্চ কোলেস্টেরল ও করনারি হৃদরোগ: যেসব রোগী উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ে দিন যাপন করছেন, ডায়েটারি ফাইবার তাদের জন্যও হতে পারে উপকারী। পিত্তরসের কোলেস্টেরল পরিপাকতন্ত্র থেকে পুনঃ-শোষণের হার কমাতে সাহায্য করে খাদ্য আঁশ। দ্রবণীয় আঁশ ফার্মেন্টেশনের ফলে যে উপজাত তৈরি হয়, তা পিত্তরসের কোলেস্টেরলের সাথে যুক্ত হয়ে অন্ত্র থেকে পুনঃ-শোষণে বাধা দেয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে না। তাই করোনারি হৃদরোগেও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা মেলে।

কোলন ক্যান্সার: প্রাণঘাতী কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয় এই খাদ্য আঁশ। খাদ্যদ্রব্য পরিপাক ও শোষণের পর অবশিষ্টাংশ মল রুপে বৃহদান্ত্রে জমা হয়। অদ্রবণীয় আঁশ পানি ধরে পরিমাণে বৃদ্ধি পায় যা বৃহদান্ত্রে চাপের সৃষ্টি করে। ফলে তা দ্রুত দেহ থেকে বের হয়ে যায়, তাই মল থেকে বিষাক্ত পদার্থ শোষণে বাধা দিয়ে এটি সুরক্ষা দেয়।

ডাইভারটিকুলোসিসঃ অন্ত্রের ডাইভারটিকুলোসিস প্রতিরোধে অদ্রবণীয় আঁশের ভূমিকা আছে। খাদ্য আঁশ দ্রুত মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে বলে ক্ষুদ্রান্ত্রের দেয়ালে চাপ কমে যায়, যা বৃদ্ধ বয়সে ডাইভারটিকুলোসিসের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ২০-২৫ গ্রাম আঁশ থাকা উচিত। সুষম খাদ্যের প্রতি ১০০০ কিলো ক্যালরি খাদ্যে ১০ গ্রাম আঁশ থাকাটা বাঞ্ছনীয়। অন্যদিকে একবারে বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস হওয়া ও পাতলা পায়খানা হতে, অনভ্যস্তরা তাই ধীরে ধীরে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়াবেন।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। (অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।
 

Comments are closed.