Not Available Date for this Advertisement

প্রতিরোধী স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা / Anti-body

blog-pic-389

প্রতিরোধী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি ?
প্রতিরোধী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলতে বোঝায় যে কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা যা কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য করা হয়। কিছু প্রতিরোধী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যা নিজে থেকেই নেওয়া সম্ভব নিম্নে  দেওয়া হল:

# স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন: মানুষ স্বাভাবিকভাবে বুঝতে চায় না যে জীবন যাপনের কৌশল পরিবর্তন এক ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে, জীবন পদ্ধতি পরিবর্তন খুবই কার্যকরী অনেক ক্ষেত্রে ঔষধ থেকেও বেশি। যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়, সঠিক খাবার গ্রহণ করা হয়, ওজন ঠিক রাখা হয়, মাদক ও ধূমপান পরিহার করা হয় তাহলে, এইসবে অভ্যস্ত মানুষের থেকে, রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম হবে। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না।

# প্রতিষেধক গ্রহণ: নির্দিষ্ট কিছু অসুখ  হতে প্রতিষেধক আমাদের রক্ষা করে। কিছু সংক্রমণ যেমন নিউমোনিয়া বা সাধারণ সর্দি হতেও আমাদের রক্ষা করে।

যদি ৬৫ বছরের থেকে বেশি বয়স হয় সেক্ষেত্রে:
– প্রতি বছর একবার ফ্লু প্ররোচক নিতে হবে।
– ২টি নিউমোনিয়া প্রতিষেধক নেওয়া-প্রতি বছর  অন্তত একটি।
– শি-গেলা প্রতিষেধক নেওয়া।
– টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার এবং ডিপথেরিয়া (Td) প্রতিষেধক বর্ধক বা বুষ্টার নেওয়া, সাধারণত প্রতি ১০ বছরে একটি (বর্ধক ডোজ হল এমন একটি প্রতিষেধক যা প্রথম নেওয়া ডোজগুলোর ফলে তৈরি হওয়া দেহের প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে একটা নাড়া দেয়।) অনেক ক্ষেত্রে নতুন প্রতিষেধক যার নাম Tdap নেওয়া হয় Td এর পরিবর্তে, কিন্তু এর পরের প্রতিরোধক বর্ধক গ্রহণের সময় Td নিতে হবে।

(অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

# স্ক্রিনিং বা বাছাই: স্ক্রিনিং বলতে এমন কিছু পরীক্ষা বুঝায় যেগুলোর মাধ্যমে কোন রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার আগে এর পূর্বাভাস পাওয়া যায়। কর্কটরোগের স্ক্রিনিং অন্যতম।

– ৬৫ বছর বা এর চেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের উচিত চিকিৎসকে জিজ্ঞেস করা যে কোন ধরণের কর্কটরোগ বা ক্যান্সার এর স্ক্রিনিং করতে হবে। বয়স যত বাড়বে কিছু স্ক্রিনিং এমনিতেই আর করতে হবে না, যেমন, প্যাপ টেস্ট, ম্যামোগ্রাফি, বা কোলন ক্যান্সারের পরীক্ষা, তবে এর মানে এই নয় যে এগুলোতে আক্রান্ত হবেন না ঐ ব্যক্তি। অন্যদিকে, যেহেতু কর্কটরোগ হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে এক সময় আর সাহায্য করে না বরঞ্চ ক্ষতি করে। এর কারণ স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলোর ফলে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে হয় যা আদৌ তার কোন রোগ তৈরি করেনি।

– ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের সকলকে চোখের পরীক্ষা করতে হবে প্রতি ১ বা ২ বছর অন্তর। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে কিছু দৃষ্টি ক্ষয় থামানো বা কমানো যায়।

– পুরুষদের “এবডোমিনাল এওর্টিক এনিউরিজম” নামক রোগের জন্য স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন যাদের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ এর মধ্যে যদি তারা ধূমপান করে থাকেন বা নিকটাত্মীয়ের কেউ “এবডোমিনাল এনিউরিজম” এর কারণে মারা যান বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এই রোগে শরীরের প্রধান ধমনী ফুলে যায় যেটির মাধ্যমে শরীরের অর্ধেক অংশে রক্ত সরবরাহ হয়।

– ৬৫ বা তদূর্ধ্ব নারীদের অস্টিওপোরেসিস বা হাড় ক্ষয় এর জন্য স্ক্রিনিং করতে হয়।

# নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া: প্রতিবার চিকিৎসকের কাছে গেলে স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা তা জানার জন্য কিছু নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হয়। যেমন, রক্তচাপ পরীক্ষা, ওজন মাপা, মানসিক অবস্থা দেখা। স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুসারে রক্তের কোলেস্টেরল পরিমাপও করা হয়। সেই সাথে চিকিৎসক বয়স বিবেচনা করে পূর্বে প্রদত্ত ঔষধ নিরীক্ষা করেন, ঔষধ সেবন বন্ধ করতে বলেন বা পরিবর্তন করে দেন প্রয়োজনমত।

# শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করে এমন ঔষধ সেবন করা: কিছু মানুষকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হয় যেমন, হৃদরোগ, স্ট্রোক, বা অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধ করার জন্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিরা অ্যাসপিরিন সেবন করেন হৃদরোগ বা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য। এই বয়সে অনেক নারীকে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি সেবন করতে হয় হাড় ক্ষয় প্রতিরোধের জন্য (ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি হাড় শক্ত করে, পেশী সবল করে।)

বয়স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক পরিবর্তন হয়। যেমন, শরীর রোগ প্রতিরোধ ভালোভাবে করতে পারে না। ফলে, বিভিন্ন প্রতিষেধক নিতে হয়। ঔষধের প্রতি শরীরের সাড়া দেওয়াতেও পরিবর্তন আসে। এর ফলে যকৃত ও বৃক্ক, যাদের কাজ ঔষধকে ভেঙ্গে ফেলা আগের কাজ করতে পারে না। বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিছু রোগও সার্বজনীন হয়ে যায়। যেমন, অধিকাংশ কর্কটরোগ এবং হৃদরোগ যা যৌবনে হয়নি সেগুলো হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মনে রাখা প্রয়োজন যে বয়স বৃদ্ধি মানেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া নয়। নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে দেখা করে তার পরামর্শ মেনে চলতে হবে। এর ফলে জানা যাবে শারীরিক পরিবর্তনগুলো কোন সমস্যা তৈরি করতে পারে কিনা এবং সেক্ষেত্রে কি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

সুস্থ থাকার জন্য আর কি করা সম্ভব ?

# পড়ে যাওয়া প্রতিরোধ –
– অবশ্যই এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, বাসায় চলার পথ ভালো হতে হবে, পরিষ্কার থাকতে হবে, বৈদ্যুতিক তার দেয়াল বা মেঝের সাথে ভালো করে লাগিয়ে রাখতে হবে। ফেলে রাখা ছোট ময়লা বা মেঝের পাপোষ এর জন্য যেন মেঝে পিছল না হয়।
– শক্ত, স্বাচ্ছন্দকর জুতো পড়া উচিত।
– ভিটামিন-ডি পরিপূরক খাবার হিসেবে খাওয়া উচিত।
– সতেজ থাকার চেষ্টা করতে হবে, এক্ষেত্রে ব্যায়াম ভালো সহায়ক।
– যে ঔষধ সেবন করা হচ্ছে সেগুলো নিরীক্ষা করা উচিত চিকিৎসকের সাথে কথা বলে, যেমন, ঘুমের ঔষধ হটাত পড়ে যাওয়া বা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্ষতির কারণও হতে পারে।।

*গাড়ি চালানো নিরাপদ হবে কি?- এটি বলা কঠিন যদিও চিকিৎসকের পরামর্শ এক্ষেত্রে সাহায্য করবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৃষ্টি ও শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং কাজ ধীর হয়ে যায়। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
*মল ও মূত্র ত্যাগে সমস্যা হলে বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। অ-নিয়ন্ত্রণ জনিত সমস্যা হলে, চিকিৎসকের সাথে জরুরী ভিত্তিতে কথা বলা উচিত।কারণ এর অনেক চিকিৎসা আছে, লজ্জার কিছু নেই।
*ঔষধের তালিকা হাল-নাগাদ করণ- যতবার চিকিৎসকের কাছে আসা হবে ততবার ঔষধের তালিকা সাথে আনতে হবে।
*অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা হলে- এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। আত্মীয় বা সাহায্যকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
*সামাজিকতা রক্ষা করে চলা- সকলের সাথে সদ্বাভ নিয়ে চলা খুব জরুরী সুস্থ থাকার জন্য। চিকিৎসককে জানাতে হবে একাকীত্বে ভুগছে কিনা ব্যক্তিটি। মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।

চিকিৎসককে এটা জানাতে হবে যে পরিবারের সদস্য বা অন্যদের দ্বারা মানসিকভাবে আহত কিনা, বা বঞ্চিত বা নিগৃহীত মনে হয় কিনা বা কেউ ভুল বুঝছে এমন মনে হয় কিনা। এমনকি অর্থাভাব, চুরির শিকার হয়েছে এমন কথাও চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করতে হবে।

Subscribe “Doctorola TV” (Online Health Channel)

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না। লেখা সংক্রান্ত কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে ব্লগের নিচে “Leave a Reply” সেকশনে বিস্তারিত লিখুন।

 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.