ধূমপান ও মুখের স্বাস্থ্য ঝুঁকি

blog-pic-390

এটা সবার জানা যে, ধূমপান আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম একটি কারণ ধূমপান। কিন্তু মুখ ও দাঁতের উপর ধূমপানের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে আমরা কতটুকু সচেতন? বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই দাঁত ও মুখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় অনীহা পরিলক্ষিত হয়, যা পরবর্তীতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

মুখ ও দাঁতের উপর ধূমপানের প্রভাব:
১. দাঁতের বিবর্ণতা: ধূমপানের প্রভাবে দাঁতের স্বাভাবিক বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে বিবর্ণ হয়ে বাদামী বা কালো হয়ে যেতে পারে। সিগারেটের মধ্যে থাকা নিকোটিন ও টার (Tar) এই বিবর্ণতার জন্য দায়ী।

২. মাড়ির সমস্যা: ধূমপান মাড়ির সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে। ধূমপান সহজে ডেন্টাল প্লাক জমতে সাহায্য করে যা ক্যালকুলাসে পরিণত হয়ে মাড়িরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর ফলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। অনেকক্ষেত্রে ধূমপান পেরিওডোন্টাল লিগামেন্টকে (1) ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে যার জন্য দাঁতের দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে দাঁত নড়ে যেতে পারে। আবার,ধূমপানের জন্য দাঁত থেকে মাড়ি সরে যেতে পারে(জিনজিভাল রিসেশন) এবং দাঁতে শিরশির অনুভূত হতে পারে।

৩. মুখে দুর্গন্ধ হওয়া: ধূমপানের জন্য মুখের পরিচ্ছন্নতা (ওরাল হাইজিন) বজায় রাখা দুরূহ হয়। সেজন্য ধূমপায়ীদের মুখে দুর্গন্ধ হয়।

৪.দন্ত-ক্ষয়: যেহেতু ধূমপান দাঁতে প্লাক জমতে সাহায্য করে, সেজন্য ধূমপায়ীদের মধ্যে দন্ত-ক্ষয়ের সমস্যাও দেখা যায়। ধূমপায়ীদের মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দুরূহ হয় বলে এক বা একাধিক দাঁত ক্ষয়ে আক্রান্ত হতে পারে।

৫. মুখের স্বাদ বিনষ্ট: ধূমপান এর কারণে মুখের স্বাদ বিনষ্ট হয়ে যায় এবং খাওয়ায় অরুচি দেখা যেতে পারে।

৬. মুখের ক্যান্সার: ফুসফুসের ক্যান্সারের মত ধূমপান, মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। প্রতিবছর সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহস্রাধিক মানুষ মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। প্রথমত মুখে ঘা দেখা দেয়, যা সহজে ভালো হতে চায় না, তিন সপ্তাহের অধিক স্থায়ী ঘা থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সমাধানের উপায়:
যে সব ধূমপায়ী মুখ ও দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শ :
১. মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
২. সঠিক নিয়মে এব্রেসিভযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করতে হবে।
৩. মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।
৪. মুখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে, যেমনঃ
– দন্ত-ক্ষয় দেখা দিলে ফিলিং কিংবা রুট ক্যানেল চিকিৎসা করিয়ে নিতে হবে।
– মাড়ির সমস্যায় স্কেলিং, পলিশিং, রুট প্ল্যানিং ইত্যাদি করে নিতে হবে।
– মুখে ঘা দেখা দিলে অবশ্যই ঘা’য়ের সঠিক চিকিৎসা যথাসময়ে গ্রহণ করতে হবে।

মুখ ও দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধের উপায়:
১. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
২. সঠিক নিয়মে ব্রাশ ও ফ্লসিং করতে হবে।
৩. নির্দিষ্ট সময় অন্তর একজন ডেন্টাল সার্জনের কাছে চেক’আপ করিয়ে নিতে হবে।

Note: (1) পেরিওডোন্টাল লিগামেন্ট: যে লিগামেন্ট (অস্থিবন্ধনী) এর মাধ্যমে দাঁত তার নির্দিষ্ট স্থানে (socket) এর মধ্যে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না। লেখা সংক্রান্ত কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে ব্লগের নিচে “Leave a Reply” সেকশনে বিস্তারিত লিখুন।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.