ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম Irritable bowel syndrome – IBS

blog-pic-398

লিখেছেনঃ ডা. কামরুল আহসান, শিশু বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল, ঢাকা। (অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, সংক্ষেপে IBS হলো বৃহদান্ত্রে একটি সাধারণ রোগ। সারা পৃথিবীতে ১৫% থেকে ২০% মানুষ এই রোগে ভুগেন। সাধারণত মহিলারা পুরুষদের চেয়ে বেশি ভোগেন  IBS-এ। বৃহদান্ত্র পরিপাকতন্ত্রের শেষ ভাগে অবস্থিত। পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবারের পরিপাক ও শোষণের সিংহভাগ সম্পন্ন হয়। অবশিষ্টাংশ মলরুপে বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে। এখানে বাকি শোষণের কাজ সম্পন্ন হয়ে মলাশয় ও পায়ুপথ দিয়ে মল হিসেবে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। পরিপাক ও শোষণের অবশেষ থেকে পানি শোষণ করে এবং মিউকাস নিঃসৃত করে বৃহদান্ত্র মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। বৃহদন্ত্রের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে মল ক্রমশ সামনের দিকে চলে।

কেন হয়?
ঠিক কি কারণে IBS হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বৃহদান্ত্রে কোনও ধরনের গাঠনিক ত্রুটি বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না। মনে করা হয় এটি বৃহদন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয়। বৃহদন্ত্রের মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট যে চলাচল প্রক্রিয়া তাতে বিঘ্ন ঘটে এ রোগে । মানসিক চাপ, আবেগীয় সমস্যা, বিশেষ ধরণের কিছু খাবার ও পরিপাকতন্ত্রের স্থানীয় হরমোন Serotonine- এর প্রভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। খাবারের পরিমাণও IBS- এর রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সাথে বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া এ রোগীর যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে পারে।

IBS

Irritable bowel syndrome (IBS) is a common disorder that affects the large intestine. Signs and symptoms include cramping, abdominal pain, bloating, gas, and diarrhea or constipation, or both. IBS is a chronic condition that you’ll need to manage long term.

আই বি এস এর লক্ষণঃ
# পেটে ব্যাথা, বিশেষ করে মোচড় দিয়ে বা কামড় দিয়ে ব্যাথা
# পেট ফাঁপা বা পেটে গ্যাস জমা হওয়া
# পেটে অস্বস্তি
# পাতলা পায়খানা
# কোষ্ঠকাঠিন্য
# মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ  মল ত্যাগের অনুভূতি

আই বি এস এর ধরনঃ
IBS- এর কিছু রোগী আছেন যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন আবার কেউ কেউ ভোগেন পাতলা পায়খানায়। আবার কারো কারো পর্যায়ক্রমে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাতলা পায়খানা হয়। এই উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে IBS কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১. IBS C
২. IBS D
৩. IBS M

পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য রোগেও এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। IBS একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ হলেও এ থেকে অন্য কোনও জটিলতার আশঙ্কা নেই। তবে বৃহদন্ত্রের অন্যান্য রোগ যেমন- ক্রনস ডিজিজ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, অন্ত্রের যক্ষ্মা, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ থেকে নানা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যদি এ সমস্যার সাথে জ্বর, রক্ত যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, পেটে কোনও চাকা অনুভূত হওয়া বা সার্বক্ষণিক ব্যথা হয়, তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। “অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না।”

IBS- এর চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি খাবারের একটি স্থান আছে। বারণের আওতায় পড়ে বিশেষ কিছু খাবার। সেসব খাবার এ রোগীদের এড়িয়ে চলতে বলা হয় তা হলঃ
# দুধ ও দুধজাত খাবার- পায়েস, ছানা, মিষ্টি, পনির
# অতিরিক্ত তেল-চর্বি দিয়ে তৈরি খাবার- পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি, তেলে ভাজা পরোটা, লুচি, পুরি
# পেটে গ্যাস তৈরি করতে পারে এমন খাবার- বাঁধাকপি, মুলা, ফুলকপি, ব্রকলি, পেঁয়াজ, শিম, ডাল
# ক্যাফেইন আছে এমন পানীয়- কফি, কোলা জাতীয় পানীয়
# চকোলেট ও চকোলেট জাতীয় পানীয়
# অ্যালকোহল

খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ
IBS- এর রোগী যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তারা খাবারে অদ্রবণীয় আঁশ আছে এমন খাবার বেছে নেবেন। শাক-সবজি বেশি খেলে প্রতিদিন মল ত্যাগ করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে ইসবগুলের ভুসি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই মিলবে। প্রতিদিনের খাবারে ২৫ গ্রাম করে আঁশ হচ্ছে আদর্শ হিসাব। সাথে প্রচুর পানিও পান করতে হবে। খোলাসহ ফল এবং সালাদ থাকবে খাবার মেন্যুতে। বেশি পরিমাণ অদ্রবণীয় খেলে পেটে গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়াতে হবে। আর যারা ডায়রিয়াসহ IBS- এ ভুগছেন, তারা দুধ ও দুধের তৈরি খাবার এবং অদ্রবণীয় আঁশ বাদ দিয়ে মেন্যু নির্ধারণ করবেন। পুদিনা পাতা পেটের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। তাই এটি রাখুন খাবারের মেন্যুতে। পেটে গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার (বাঁধাকপি, মুলা, ফুলকপি, ব্রকলি, পেঁয়াজ, শিম, ডাল) কমালে পেট কম ফাঁপবে।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না। লেখা সংক্রান্ত কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে ব্লগের নিচে “Leave a Reply” সেকশনে বিস্তারিত লিখুন।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

2 Comments

  1. mehedi hasan says:

    gas er problem…….

    2yrs aage ami ekbar ratre khaowa 6/7 months er jonno totally off korechilam…..
    tar kichu din por theke ghum vangar por praay sokale pete betha hoito…

    akhn khabar regular korechi….. but akhn gym e gele 30 min exercise korar por gas er problem ta regular e hocche….

    honestly, oi 6/7 months khabar off korar aage ami kokhno gas er jonno tablet e khai nai……aage koto vaja pora khetam, problem ki jinish bujhtam e na….

    but akhn samanno khelei 12ta beje jay…

    looking forward to your Advice…….

    • একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন আছে। ডাক্তারের পরামর্শমত চিকিৎসা গ্রহন করবেন।