ফুসফুসের পর্দায় পানি কেন আসে?

blog-pic-355

কোনও রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে এবং তার ফুসফুস থেকে ১ লিটার বা দেড় লিটার পানি বের করে দেয়ার পর আমাদের কাছে চঞ্চলতা সৃষ্টি করলেও প্রকৃতপক্ষে এই পানি কিন্তু ফুসফুস থেকে বের করা হয় না, বের করা এই পানিও ফুসফুসে জমা পানি নয়। তা হলে পানি কোথায় থাকে? ফুসফুসকে যে পাতলা আবরণী বা প্লুুরায় ঘিরে রাখে তাতেই জমা হয় পানি, এ রোগটির নাম প্লুুরাল ইফিউশন। তাহলে কি ফুসফুসে কখনোই পানি জমে না? হ্যাঁ, ফুসফুসেও পানি জমে তবে সেই রোগটিকে বলে পালমোনারি ইডেমা (Pulmonary Edema) এই পানি কিন্তু এভাবে বের করে আনা সম্ভব নয়। (অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না)

অনেক কারণে ফুসফুস আবরণী বা প্লুুরায় পানি জমতে পারে। এর মধ্যে কিছু আছে ফুসফুসের নিজস্ব কারণ, কিছু কারণ আবার ফুসফুসের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই। সাধারণত ফুসফুসের টিবি, নিউমোনিয়া, ক্যান্সার, ইনফার্কশন এ জাতীয় রোগে প্লুরায় পানি জমতে পারে। ফুসফুসের রোগের বাইরে হার্ট ফেইলুর, লিভার সিরোসিস, নেফ্রোটিক সিন্ড্রম, কিডনি ফেইলুর, ম্যালনিউট্রিশন বা অপুষ্টি, পেরিকার্ডাইটিস বা হার্টের আবরণীতে প্রদাহ, লিভার এবসেস এসব রোগেও ফুসফুসের প্লুরায় পানি জমতে পারে।

প্লুরাল ইফিউশন হলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সে সঙ্গে বুকে ব্যথা, কাশি, হাল্কা কফ, জ্বর এসব সমস্যাও থাকতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বুকের একটি এক্সরে করালে প্লুরাল ইফিউশন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তবে পানি খুব কম মাত্রায় জমলে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটি-স্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারে। সেই সঙ্গে সুই দিয়ে পানি বের করে এনে তার নানা রকম পরীক্ষা করে দেখা হয় পানি জমার কারণ কি বা পানির প্রকৃতিই বা কিরকম। অনেক সময় এ রোগে প্লুুরার বায়োপসি করারও প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে রোগীর কি রোগের কারণে এ সমস্যা হয়েছে তা নিশ্চিত করেন এবং তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা শুরু করেন। যেমন টিবি হওয়ার কারণে এমনটি হলে রোগীকে টিবির ওষুধ দেন আবার ক্যান্সারের কারণে এমনটি হলে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করতে হয়। তেমনি ফুসফুসের বাইরে অন্য কোনও রোগের জন্য সমস্যা হলে সেই রোগের চিকিৎসা করালে প্লুরাল ইফিউশন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

অনেক সময় খুব বেশি পানি জমা হলে সুই দিয়ে ফুটো করে বিশেষ পদ্ধতিতে সব পানি বের করে দেয়া হয় (Pleurodesis), তাও যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে প্লুুরায় একটি টিউব প্রবেশ করিয়ে দিয়ে (Tube thoracostomy) পানি বের করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্লুরায় পানি থাকার পরও যদি চিকিৎসা শুরু করা না হয় তাহলে প্লুরায় শক্ত আবরণ পরে গিয়ে তা ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বড় অপারেশনের (Decortication of Lung) মাধ্যমে তা সরিয়ে ফেলতে হয়। তাই কারও প্লুুরাল ইফিউশন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

ডক্টরোলা ব্লগের জন্য লিখেছেনঃ ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য। অনুমতি ব্যাতিত ডক্টরোলার ব্লগের লেখা কোন অনলাইন বা অফলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার করা যাবে না। লেখা সংক্রান্ত কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে ব্লগের নিচে “Leave a Reply” সেকশনে বিস্তারিত লিখুন।

 দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.