দাঁতের পোকা

blog-pic-367

আমরা অনেকেই বলি দাঁতে পোকা হয়েছে। অনেক ডেন্টাল কোয়াক (ভুয়া ডাক্তার), কবিরাজ আবার সেই পোকা দাঁত থেকে বের করেও দেখায়। কি অসম্ভব কথা, তাই না? আসলেই কি পোকা ??

আমরা প্রতিনিয়ত খাবার খাচ্ছি। সবসময় হয়তো খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। দাঁতে খাবার জমে থাকে। বেশী সময় পর্যন্ত জমে থাকা খাবার পচে গিয়ে মুখের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া (যা এই পরিবেশের সংস্পর্শে ক্ষতিকারক হয়ে যায়) এবং মুখে প্রতিনিয়ত নিসৃত লালারসের সাথে বিক্রিয়া করে এসিড তৈরী করে এবং দাতেঁর সেই জায়গা কালো হয়ে ক্ষয় শুরু হয়। যাকে বলা হয় ক্যাভিটি।

প্রাথমিকভাবে কোন উপসর্গ থাকে না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে এবং দাতেঁর  স্নায়ুতন্তুকে উত্তেজিত করে এবং সেনসিটিভিটি শুরু হয় যাকে অনেকেই বলে দাতেঁর চুলকানি বা শিরশির করা।

ধীরে ধীরে ক্ষয় দাতেঁর ভিতরের দিকে যেয়ে দাঁতের মজ্জার রক্তনালী নষ্ট করে এবং মজ্জার স্নায়ুতন্তু ও অন্যান্য কোষ-কলাও নষ্ট করে বা পঁচে যায়। যখনই রক্ত ও স্নায়ু মজ্জাকে নষ্ট করা শুরু করে তখনই শুরু হয় প্রচন্ড দাতেঁর ব্যথা। স্নায়ু-তন্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরবর্তে হঠাৎ দাঁতের ব্যাথা চলে যায়। এ অবস্থায় রোগ ভালো হয়ে গেছে বলে মনে করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে দাঁতটি মরে যায়। একে বলা হয় পালপাইটিস বা দন্তমজ্জার প্রদাহ।

চিকিৎসা হিসেবে রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট করা হয় যেখানে দাতেঁর ভিতরের সকল রক্ত ও স্নায়ুমজ্জা বের করে কৃত্রিম উপাদান দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়।

প্রতিরোধ:
> প্রতিদিন নিয়মিত সকালে খাওয়ার পরে ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা
> দুই দাঁতের মাঝে ফ্লস ব্যবহার করে পরিষ্কার করা
> প্রতিবার খাওয়ার পর ভালভাবে কুলকুচি করা
> আঁশযুক্ত খাবার বেশী বেশী খাওয়া
> ঘন ঘন চিনি-জাতীয় খাদ্য যেমন:-  চকলেট, বিস্কুট, আইসক্রিম ইত্যাদি মিষ্টি-জাতীয় খাবার কম খাওয়া কিংবা খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে মুখ পরিষ্কার করা
> বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দাঁতের ক্ষয়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
যেমন খাবার পানিতে পরিমাণ মতো ফ্লুরাইডযুক্ত করা, দাঁতের গায়ে ফ্লোরাইডের দ্রবণ বা জেল লাগিয়ে দেওয়া, ফ্লোরাইডের দ্রবণ দিয়ে কুলি করা, ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা, দাঁতের নাজুক স্থানে আগাম ফ্লুরাইডযুক্ত ফিলিং করিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।
> ছয় মাস পর পর অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের উপদেশ ও পরামর্শ নেওয়া

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.