জ্বর-ঠোসা (ফিভার ব্লিস্টার বা কোল্ড সোর)

blog-pic-338

ঘুম থেকে উঠেই ভাবলেন রাতে নিশ্চয়ই জ্বর এসেছিলো! কারণ হিসেবে দেখলেন ঠোটের কোণায় কিংবা  বর্ডারে একগুচ্ছ ফুসকুড়ি। সাধারণভাবে আমরা একে বলে থাকি জ্বরঠোস,জ্বর-ঠোসা বা জ্বরঠুঁটো অথবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ফিভার ব্লিস্টার (Fever Blister)। প্রকাশ পাবার ২-৩ দিনের মধ্যে ব্লিস্টারে ব্যথা অনুভব হলে তখন একে বলা হয় কোল্ড সোর (Cold Sore).

লক্ষণ:
– ঠোটের কোণে, বর্ডারে বা বর্ডারের আশেপাশে গুচ্ছ-বদ্ধ ফুসকুড়ি (Cluster vesicles)
– জ্বর
– ব্যথা
– বমিভাব কিংবা বমি
– মাথাব্যথা

কেন হয়:
সাধারণভাবে আমরা মনে করি জ্বর আসার লক্ষণ হিসেবে এই ফুসকুড়ি উঠেছে। আসলে তা নয়। ফিভার ব্লিস্টারের কারণ হচ্ছে HSV-1 (Harpes simplex virus-1) ইনফেকশন। এই ইনফেকশনের  কারণেই জ্বর আসে! তবে হ্যাঁ,জ্বরের কারণেও ফিভার ব্লিস্টার হতে পারে যদি সেই জ্বর অন্যকোন ইনফেকশনের কারণে হয় যা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

কাদের বেশি হয়:
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০% মানুষই HSV-1 এ আক্রান্ত থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগই সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং দশ বছর বয়সে প্রথম প্রকাশ পায়। প্রথমবার হওয়া ফিভার ব্লিস্টার সেরে যাবার পর HSV-1 স্নায়ুকোষে লুকিয়ে থাকে এবং জীবনে বারবার এর প্রকাশ ঘটে।

সাধারণভাবে নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য ফিভার ব্লিস্টার পুনরায় প্রকাশিত হতে পারে:
কোন ইনফেকশন
মানসিক চাপ
মেয়েদের মাসিকের সময়
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি
আঘাতজনিত ক্ষত

কিভাবে ছড়ায়:
আর্থসামাজিক অবস্থাভেদে প্রায় সব মানুষের HSV-1 এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। ব্লিস্টারের ভেতরের তরল, আক্রান্ত ব্যক্তির লালা এবং শেয়ার জিনের মাধ্যমে HSV-1 ইনফেকশন ছড়ায়। তবে কিছু কারণ/মাধ্যমে এ সংক্রমণ দ্রুত হতে পারে-

# আঙুল দিয়ে ব্লিস্টার স্পর্শকরে সেই হাতে শরীরের কোন ক্ষতস্থান স্পর্শ করলে
# ব্লিস্টার ভেঙে ভেতরের তরল আশেপাশে ছড়িয়ে পড়লে
# আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পানির গ্লাস,চামচের মাধ্যমে
# লিপস্টিক, লিপ-বাম বা অন্যান্য কসমেটিক্সের মাধ্যমে
# হেলথ প্রফেশনাল কেউ রোগীর পরীক্ষার সময় গ্লোভস ব্যবহার না করলে
# চুম্বনের মাধ্যমে
# ওরাল সেক্সের মাধ্যমে

চিকিৎসা:
সাধারণভাবে ৭-১৪ দিন উপসর্গ বর্তমান থাকলেও ৮-১০ দিনের মধ্যে মধ্যে ফিভার ব্লিস্টার এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে প্রথম সপ্তাহে অ্যান্টি-ভাইরাল জেল ( অ্যাসাইক্লোভির) লাগালে আরোগ্যের হার দ্রুত হয়। তবে ১৪ দিনের বেশি সময় ব্যথাযুক্ত ফিভার ব্লিস্টার থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খালি চোখে দেখেই ফিভার ব্লিস্টার সনাক্ত করা সম্ভব। তবে ব্লিস্টারের ভিতরের তরল থেকে ডিরেক্ট ইমিউনোফ্লুরোসেন্স টেস্ট বা পলিমারেজ চেইন রিএ্যাকশনের মাধ্যমে ভাইরাস সনাক্ত করা যেতে পারে।

প্রতিরোধ:
কিছু মানুষ বছরে মাত্র দুইবার আক্রান্ত হলেও অনেকের প্রায় প্রতিমাসেই ফিভার ব্লিস্টার হতে পারে। তবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা যেতে পারে-

# ব্যবহৃত পানির গ্লাস, চামচ, লিপস্টিকসহ অন্যান্য কসমেটিক্স কারো শেয়ার না করা
# ছোটদের চুমু না দেয়া
# ব্লিস্টার স্পর্শ করলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলা
# মানসিক চাপ মুক্ত থাকা
# চুম্বন এবং ওরাল সেক্স থেকে বিরত থাকা
# সানস্ক্রিন ক্রিম, লিপ-বাম ব্যবহার করা
# পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন

যে কোনো সংক্রমণের হারই ব্যক্তিগত প্রতিরোধের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলা সহজ।

Subscribe “Doctorola TV” (Online Health Channel)

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.