মুখের অভ্যন্তরের শুষ্কতা

blog-pic-319

আমাদের মুখে কিছু লালা গ্রন্থি আছে, যেসব থেকে নি:সৃত লালা (Saliva) মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখে। তাছাড়াও লালা, মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোনও কারণে মুখের এসব লালাগ্রন্থি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে লালা উৎপাদন  করতে না পারে সেক্ষেত্রে মুখের শুষ্কতা দেখা দেয়।
মুখের শুষ্কতা’কে মেডিকেলীয় ভাষায় বলা হয় – জেরোস্টোমিয়া (Xerostomia).

মুখের শুষ্কতার কারণ:
১. কোনও ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখের শুষ্কতা হতে পারে। যেমন: এন্টিহিস্টামিন, ব্যথানাশক ঔষধ, বিষণ্ণতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা পার্কিনসোন রোগের  চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ।
২. শরীরের অন্যান্য রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  হিসেবে মুখে শুষ্কতা হতে পারে। যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ, পার্কিনসোন রোগ, জোগ্রেন সিনড্রোম( Sjogren’s Syndrome), এইডস প্রমুখ।
৩. মুখের কোনও সার্জারি  কিংবা আঘাতে’র কারণে যদি মুখের লালাগ্রন্থি  কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়,তাহলে মুখের আর্দ্রতা বিনষ্ট হতে পারে।
৪. হেড-নেক (মাথা থেকে গলা পর্যন্ত) -এর কোথাও আঘাত বা সার্জারি’র জন্য স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে  মুখের শুষ্কতা হতে পারে।
৫. ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘামের জন্য যদি শরীরে পানি শূন্যতা  দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে ও মুখে শুষ্কতা হতে পারে।
৬. যাদের ধূমপান কিংবা পান-তামাক খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের মধ্যে মুখের শুষ্কতার প্রবণতা দেখা যায়।

লক্ষণ:
১. মুখে আঠালো  ভাব লাগা
২. মুখ শুষ্ক লাগা
৩. মুখের মিউকোসায় জ্বালাপোড়া করা
৪. ঠোটের শুষ্কতা ও ঠোট ফাটা
৫. জিহ্বার শুষ্কতা ও লাল হয়ে যাওয়া
৬. মুখে দুর্গন্ধ হওয়া
৭. কথা বলা,খাওয়ায় সমস্যা হওয়া কিংবা স্বাদে পরিবর্তন আসা
৮. মাড়ির প্রদাহ(Gingivitis) ইত্যাদি।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

চিকিৎসা:
১. কোনও ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’য় মুখে শুষ্কতা যদি হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে একজন ডাক্তারের পরামর্শে সে ঔষধ পরিবর্তন করা যেতে পারে।
২. যে রোগের কারণে মুখে শুষ্কতা দেখা যায় সেই রোগের যথাযথ চিকিৎসা  করতে হবে।
৩. মাউথ ওয়াশ ব্যবহার  করা যেতে পারে।
৪. প্রয়োজনে আর্টিফিশিয়াল লালা(saliva) ব্যবহার করা যেতে পারে মুখের আর্দ্রতা বজায়
রাখার জন্য।
৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
৬. ফ্লোরাইড-যুক্ত টুথ পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭. সুগার-ফ্রি চুইং গাম চাবানো’র পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

মুখের শুষ্কতা’র চিকিৎসা  করা কেনও জরুরী?
– মুখের শুষ্কতার চিকিৎসা যদি না করা হয় তাহলে, এই শুষ্কতা মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis), দন্ত ক্ষয় (Dental Caries), মুখে ঘা/ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.