পেপটিক আলসার

blog-pic-328

বাংলাদেশের একটি বড় সংখ্যক মানুষের সমস্যা পেটে গ্যাস/গ্যাস্ট্রিক যাকে মেডিকেল টার্মে বলা হয় পেপটিক আলসার। আজ আলোচনার বিষয় এই খুবই পরিচিত এই রোগটি।

কীভাবে হয় পেপটিক আলসার?
পাকস্থলী একটি মাংসল থলি। এর ভেতরের দিকের দেয়াল নরম মিউকাস দিয়ে আবৃত থাকে। পরিপাকের প্রয়োজনে পাকস্থলী শক্তিশালী  অম্লরস হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং এনজাইম পেপসিন নিঃসরণ করে। পরিপাক প্রক্রিয়ার সময় এই এনজাইম সাধারণত পাকস্থলীর দেয়ালের ক্ষতি করতে পারে না। কারণ মিউকাস আবরণটির একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এপিথেলিয়াল কোষগুলো মিউকাস আবরণের ওপর বাইকার্বোনেট নিঃসরণ করে রাখায় সেখানে একটি ক্ষারীয় পরিবেশ বজায় থাকে। ফলে জারকরস এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। শুধু তাই নয়, কোষগুলো একটি অন্যটির সাথে শক্তভাবে জুড়ে থাকায় এবং উপরিভাগে লিপোপ্রোটিনের আবরণ থাকায় জারকরস সরাসরি কোনও ক্ষতি করতে পারে না। মিউকাস আবরণের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি কোনও কারণে ভেঙে যায় তাহলেই পেপটিক আলসার হয়।

পেপটিক আলসার কি?
পাকস্থলী যখন নিজের তৈরি অম্লরস এবং পেপসিন দ্বারা নিজে অথবা পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি করে তখন এই রোগটিকে পেপটিক আলসার বলে। এই ক্ষত পাকস্থলীতে হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ভাগ ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলেন।

কি কারণে হয় পেপটিক আলসার?
পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হবার সঠিক কারণ এখনও পরিষ্কার নয়।  তবে কিছু কিছু বিষয়কে দায়ী করা হয়।
১. ধূমপান
২. মদ্যপান
৩. কিছু ব্যথার ওষুধ
৪. হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। শতকরা ৯৫ ভাগ ডিওডেনাল আলসারের রোগীর এবং অধিকাংশ গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগীর পাকস্থলীতে এই জীবাণুর সংক্রমণ রয়েছে।

 কি কি উপসর্গ থাকে?
– সাধারণত পেটের উপরিভাগে ব্যথা হয়ে থাকে।
– বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খালি পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং খাদ্যগ্রহণের পরে ব্যথা কমে যায়। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে খাবার পর ব্যথা বাড়ে।
– মধ্যরাতে ব্যথার জন্যে অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায়।
– কিছু কিছু দীর্ঘস্থায়ী পেপটিক আলসারের রোগীর ব্যথা অনুভবের পরপরই বমি হয়।
– বমির পর ব্যথা এতোটা কমে আসে যে, এ সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যথা নিরাময়ের জন্যে রোগীরা চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত উপসর্গ বিহীন থাকতে পারে। তারপর আবার উপসর্গ দেখা দেয়।
– রোগ যতো পুরনো হতে থাকে উপসর্গ বিহীন সময় ততো কমতে থাকে এবং আক্রমণের স্থায়িত্ব ও সময় বাড়তে থাকে।

– ইউটিউবে স্বাস্থ্য টিপস পেতে ক্লিক করুন “Doctorola TV” (Online Health Channel) –

কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়?
১. সবচাইতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাটি হচ্ছে এণ্ডোস্কোপি। ফাইবার অপটিক গ্লাসের তৈরি বিশেষ নলের সাহায্যে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের অংশগুলো সরাসরি দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়।
২. অনেকক্ষেত্রে বেরিয়াম খাইয়ে এক্স-রে করা হয়।

এ রোগ থেকে কি কি জটিলতা হতে পারে?
পেপটিক আলসার দীর্ঘস্থায়ী হলে বা সুচিকিৎসা না হলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
১. ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণের ফলে রোগীর রক্তবমি বা কালো পায়খানা হতে পারে।
২. কিছু ক্ষেত্রে আলসার গভীর থেকে গভীরতর হয়ে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের দেয়াল ফুটো হয়ে যেতে পারে।
এ দুটো অবস্থাতেই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

উপদেশ ও চিকিৎসা: পেপটিক আলসার একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। রোগী বারবার এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
১. ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
২. মদ্যপান বন্ধ করতে হবে।
৩. ব্যথানাশক ওষুধ সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতে হবে।
৪. চা-কফি খাওয়া কমিয়ে ফেলতে হবে।
৫. নিয়মিত খাদ্যগ্রহণের অভ্যাস করতে হবে।
৬. ব্যথার সময় অনেকে এন্টাসিডের পরিবর্তে সোডা খেয়ে ফেলেন, যা শরীরের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে।

এন্টাসিড, প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর/ এইচ টু রিসিপ্টর ব্লকার, বিসমাথ, সুক্রালফেট, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হয় পেপটিক আলসারের চিকিৎসায়।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

3 Comments

  1. Abdullah Al Mamun Khan says:

    I need an eye specialist. Plz. send me his address.

  2. Md. Shamsul Hoque says:

    সুন্দর পরামর্শ।