জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

blog-pic-294

জলবসন্ত আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যাওয়া রোগগুলোর মধ্যে একটি । বছরের যে কোন সময় এ রোগ হতে পারে, তবে আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এরোগ ছড়াতে পারে এবং ব্যাপক ভাবে দেখা যায়। আক্রান্ত হওয়ার ১৪-২০দিনের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ০.৫ মিমি ব্যাসের কম পানির থলের মতো ছোট ছোট দানা দেখা দেয় যা শরীরের কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দিকে ছড়াতে থাকে। এদানা দেহে খুব ঘন এবং হাত পায়ে হাল্কাভাবে দেখা দেয়। এ দানাগুলো প্র্রথমে লাল ছোট ছোট হয়ে দেখা দেয় যা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ০.৫মিমি ব্যাসের কম ছোট ছোট পুঁজের থলের মতো ছোট ছোট ফোস্কাতে পরিনত হয়। জলবসন্ত বা চিকেন পক্স একটি খুবই ছোঁয়াচে রোগ,ভেরিসেলা জোস্টার নামের ভাইরাস এর জন্য দায়ী।ছোট বড়,নারী-পুরুষ ভেদে সকল বয়েসীরাই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন,তবে শিশুদের মধ্যে আক্তান্তের হার বেশি হয়ে থাকে।

কিভাবে ছড়ায়

কাশি-হাঁচি, এমনকি ত্বকের সংস্পর্শে এলেও অন্যরা এতে আক্রান্ত হতে পারে।রোগটি ছড়াতে শুরু করে ত্বকে গুটি দেখা দেওয়ার দুদিন আগে থেকেই। আর ছড়াতে থাকে যদ্দিন না সব কটি গুটি শুকিয়ে যায়। তাই আক্রান্ত রোগী অনেক সময় নিজে বুঝে ওঠার আগেই রোগ ছড়াতে থাকে।

লক্ষণসমূহ
প্রথমেই উল্লেখ করেছি ছোট ছোট দানা ও ফোস্কার কথা । এর সাথে ত্বকে ফুস্কুড়ি প্রকাশ পাওয়ার ২-৩ দিন পূর্বেই জ্বরের ভাব হয়,শরীরে বেথা অনুভূত হয়ে থাকে।পেটে বেথা হতে পারে। ফুস্কুরিতে চুলকানি ও জ্বালা-পোড়া অনুভূতি হতে পারে। এ রোগ এর স্থায়িত্ব ১৪ থেকে ২০দিন হতে পারে।

চিকিৎসা
সাবধানতা অবলম্বন করলে কদিন পর এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। তবে লক্ষ্মণ অনুসারে রোগীকে প্রশান্তি দেয়ার জন্য চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।এ রোগ থেকে পরবর্তীতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে , সেজন্য আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। এই রোগ থেকে পরবর্তীতে জোস্টার হতে পারে সেজন্য সতর্কতা মূলক অ্যান্টিভাইরাল দেয়া যেতে পারে। এই রোগে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। আক্রান্ত রোগীকে হাল্কা গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন , মাছি তাড়িয়ে রাখুন।

প্রতিরোধ
শিশুকে এ রোগের প্রতিরোধক টিকা দিন।সাধারণত ১-১২ বছর বয়সের মধ্যে দেয়া উচিৎ। যাদের একবার এই রোগ হয়ে গেছে তাদের পুনরায় হবার সম্ভাবনা নেই। জোস্টার থেকে বাঁচার জন্য ৬০ বছর এর সময় এর বিরুদ্ধে টীকা নেয়া যায়। যাদের একবার হয়েছে তারা এই টীকা নিতে পারেন।  আক্রান্ত রোগীকে প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।আক্রান্ত রোগীকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন কারণ এটি প্রচুর ছোঁয়াচে রোগ । খাবারে মাছ-মাংস নিষেধ বলে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে,বরং এগুলো বেশি খেতে দিন।

কোনরকম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে ঝাড় ফুঁক , কবিরাজ , ওষুধ বিক্রেতার চিকিৎসা / মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের চিকিৎসা না নিয়ে একজন M.B.B.S. ডাক্তারের শরণাপন্ন হন , আপনার অবস্থা বুঝেই তিনি ব্যবস্থা দিবেন । শিশু,গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এমন রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিন। এদের জলবসন্ত থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়া বা অন্যান্য  জটিলতা হতে পারে,কাজেই আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।
 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।
 

Comments are closed.