কোলেস্টেরল নিয়ে কিছু তথ্য

blog-pic-287

শব্দটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। রক্তে যার অস্বাভাবিক উপস্থিতি আমাদের ভাবায়। আমরা যে সব খাবার গ্রহন করি তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান হচ্ছে তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার। স্নেহ জাতীয় খাবার অর্থাৎ Lipid ev Fat জাতীয় খাবার বলতে আমরা যা বুঝি তা সবই এর অর্ন্তগত। উদ্ভিদ বা প্রানীজ দুই রকমের উৎস থেকেই পাওয়া যায় এ খাদ্যোপাদানটি। বিভিন্ন রকমের উদ্ভিদজাত তেল যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, পামতেল, নারিকেল তেল, তিলের তেল, বাদামতেল, সূর্যমূখীর তেল, ডালডা, মার্জারিন ইত্যাদি আমরা খাই। এসব তেল সাধারনত ব্যবহৃত হয় রান্নার মাধ্যম বা Cooking Medium হিসেবে। খাবারকে মুখরোচক করতে,শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে, চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিন গুলোর উৎস ও বাহক হিসেবে এসব ভোজ্য তেল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ঘি,মাখন এবং বিভিন্ন প্রানীর মাংসের সাথে যে চর্বি থাকে তাই প্রানীজ উৎস হিসেবে আমরা পাই। মাছ থেকেও তেল পাওয়া যায়। রাসায়নিকভাবে তেল হল বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি এসিড । বিভিন্ন তেলে বিভিন্ন নামের ফ্যাটি এসিড থাকে। এই ফ্যাটি এসিড যখন গ্লিসারলের সন্বয়ে যৌগ তৈরী করে তাকে নিউট্রাল ফ্যাট বলে । এই নিউট্রাল ফ্যাটও আমরা খেয়ে থাকি বিভিন্ন্ খাবারের মাধ্যমে। এই নিউট্রাল ফ্যাট ছাড়াও আরো কিছু কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থ আমরা চর্বি জাতীয় খাবার হিসেবে খাই-যেমন- কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড। খাবার হিসেবে এগুলো খাওয়ার পর চলে আসে পরিপাক বা হজমের ব্যাপারটি। নানারকমের এনজাইম আছে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে ,যারা পিত্তরসের সহযোগিতায় এসব চর্বি বা তেলকে ভেঙ্গে শোষণযোগ্য ছোট ছোট কণায় পরিনত করে।

এসব পরিপাককৃত খাদ্যকণা রক্তে শোষিত হয়ে লিভারে চলে আসে পরবর্তী বিপাকের জন্য।
ডিসলিপিডিমিয়া হলো রক্তে চর্বি বা লিপিডের অস্বাভাবিক উপস্থিতি। এটি হাইপারলিপিডিমিয়া বা হাইপারকোলেস্টেরলেমিয়া হিসেবেও পরিচিত। রক্তে ভাসমান এই চর্বিগুলো স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে পরিমানে বেশি হয়ে গেলে তা আমাদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এ চর্বি গুলো রক্তে মুক্তভাবে থাকে না। প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে এগুলো রক্তে ভেসে বেড়ায়। এ গুলোকে একত্রে বলা হয় লাইপোপ্রোটিন (Lipoprotien, Lipid+Protien)। এই লাইপোপ্রোটিন গুলো হল-

VLDL- Very low density lipoprotein

LDL- Low density lipoprotein

HDL- High density lipoprotein

TG- Triglyceride

Cholesterol
এ সব লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে যে গুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাদেরকে সাধারনভাবে ক্ষতিকর চর্বি বা মন্দ চর্বি বলে। VLDL, LDL, TG I Cholesterol হল ক্ষতিকর চর্বি। অন্যদিকে HDL যা রক্তের ক্ষতিকর চর্বিকে কমিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয় বলে একে উপকারী চর্বি বা ভাল চর্বিও বলে। ক্ষতিকর চর্বির আধিক্য যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি ভাল চর্বি তথা HDL এর আধিক্য স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এটি রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই রক্তে HDL এর মাত্রা বেশি হওয়াই কাম্য।
রক্তে চর্বির পরিমান জানতে যে ল্যাবরেটরী পরীক্ষাটি করতে হয় তার নাম Serum Lipid Profile । কমপক্ষে ১০-১২ ঘন্টা অভূক্ত থাকার পর রক্তের এ পরীক্ষাটি করতে হয়। যাদের করোনারী হৃদরোগ ও ডিসলিপিডিমিয়ার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে , যিনি ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপ বা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের Serum Lipid Profile পরীক্ষাটি করে নেয়া উচিত। (পরবর্তিতে এ নিয়ে আরো লেখা প্রকাশ হবে)।

লিখেছেনঃ ডা. কামরুল আহসান, শিশু বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল, ঢাকা।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484

Comments are closed.