পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম Polycystic Ovary Syndrome (PCOS)

blog-pic-242
নাম শুনেই এই রোগটি সম্পর্কে একটা ধারণা করা যায়। এই রোগে ডিম্বাশয়ে অনেক গুলো সিস্ট হয় বলেই এর এমন নামকরন। তরুণীদের মধ্যে সাধারণত এই রোগটি বেশী হয়ে থাকে। ডিম্বাশয় থেকে আসা পুরুষ হরমোনের আধিক্য এর প্রধান কারন।
সাধারণত তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য দিয়ে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। সেগুলো হলঃ
(১) বিলম্বে/দেরি করে করে মাসিক হওয়া।
(২) রক্তে পুরুষ হরমোনের আধিক্কের কারণে অতিরিক্ত অবাঞ্ছিত লোম গজানো।
(৩) ডিম্বাশয়ে অনেকগুলো সিস্ট হওয়া ।
উপসর্গ:
(১) অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া বিশেষ করে পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমে মোটা হওয়া,
(২) মাসিকের সমস্যা যেমনঃ অনিয়মিত/ অনেকদিন পর পর মাসিক হওয়া, মাসিক বন্ধ থাকা, অনেকদিন বন্ধ থাকার পর অতিরিক্ত পরিমানে মাসিক হওয়া।
(৩) বাচ্চা না হওয়া।
(৪) মুখে ও শরীরে অবাঞ্ছিত লোম ও মুখে অতিরিক্ত ব্রন হওয়া।
(৫) ঘাড়ের চামড়া কাল মোটা হয়ে যাওয়া। এটা বগল তলা, পায়ের (thigh) ভাঁজে ও হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ
(ক) এসব রোগীদের আলট্রাসনগ্রাফি (প্রধানত TVS) করলে দেখা যায়
১. ডিম্বাশয়গুলো বড় (১০কিউবিক সেমি) হয়ে যায়, ২. অনেকগুলো (১২ বা এর বেশী) ছোট ছোট সিস্ট (২-৯মি মি) মালার মতো ডিম্বাশয়ের বাইরের দিকে দেয়ালের কাছে সাজানো থাকে।
(খ) হরমোন পরীক্ষাঃ মাসিকের ৩য় দিন LH হরমোনের পরিমান FSH এর ৩গুন বেড়ে গেলে,
(গ) অন্যান্য হরমোন যেমনঃ থাইরয়েড, প্রলাকটিন, টেস্টসটেরন হরমোনের ও অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে।ঘ) রক্তে গ্লুকোজ এর চাইতে ইনসুলিন এর লেভেল কমে গেলে। ঙ)ল্যাপরস্কপি তে দুই ডিম্বাশয়ে অনেকগুলো সিস্ট দেখা গেলে।
চিকিৎসাঃ
(১) ওজন নিয়ন্ত্রন করা ( তেল জাতীয় খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা), এতে মাসিক নিয়মিত হওয়া ও গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
(২) উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা যেমনঃ মাসিক অনিয়মিত হলে চক্রাকারে হরমোন সেবনের মাধ্যমে নিয়মিত করা। প্রজেসটেরন বা খাবার বড়ি র মাধ্যমে তা করা যায়।
(৩) এধরনের রোগীদের সাধারণত রক্তে ইন্সুলিন ও গ্লুকজ দুটোই বেশী থাকে কারন এদের ইন্সুলিন রিসেপটার কাজ করেনা। ইন্সুলিন রক্তে পুরুষ হরমোনের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। এদের ডায়বেটিস, লিপিডের আধিক্য, উচ্চরক্তচাপ ও হতে পারে। মেটফরমিন রক্তে ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে এসব জটিলতা দূর করতে পারে।
(৪) যাদের বাচ্চা হয়না তাদের বন্ধাত্তের চিকিৎসায় ডিম্ব –স্ফুটনের ওষুধ সেবন করতে হয়।
(৫) এদের রক্তের পুরুষ হরমোনের (Androgen) মাত্রা কমানোর জন্যেও কিছু কিছু ওষুধ সেবন করতে হয়।
লিখেছেনঃ
Dr. Rushdana Rahman Toma Assistant Professor, Dept. of Gynecology & Obstetrics, Dhaka Medical College & Hospital (চেম্বারঃ Ibn Sina Diagnostic & Imaging Center, Dhanmondi Branch,সিরিয়াল পেতে কল দিন 16484 এ)
ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

10 Comments

  1. Armin says:

    I am suffering heavy flow with big clot last few years. I am 39 years old. Weight 84kg ang height 5ft have 2 kids. Doctor give me Tab Tranexamic Acid 500mg 2tab 3 times but no result. Dr did ultrasonic and found every thing good no sist nothing. Due to this her hemogolving is going down. Now 11%. Pls, advise

    • হিমোগ্লবিন ১১% হলে চিন্তা এর কিছু নেই কারণ এটাকে আমাদের দেশ, আপনার বয়স এবং লিঙ্গ হিসাবে স্বাভাবিক ধরা যায়। ১২/১৩ হলে খুবই ভালো। আপনাকে যে ওষুধ টি দেয়া হয়েছে তা রক্তপাত কমানোর জন্য। যেহেতু কাজ হচ্ছে না তাই পরবর্তী চিকিৎসা অপশনে যেতে হবে। আপনি একজন অভিজ্ঞ গাইনি ডাক্তারকে দেখাতে পারেন। আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

  2. yeasmin chowdhury tuhin says:

    i am also face this prblm…diet n exercise o kri bt erpor o period irrigulr..

    • আপনি কি কোন গাইনি এর ডাক্তার দেখিয়েছেন? যদি না দেখিয়ে থাকেন তাহলে একজন গাইনি এর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিবেন। আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি

  3. Rowshan says:

    আমি নি:সন্তান। আমার ওভারিয়ান সিস্ট একেবারেই কম ছিল বলেছে। Dr. বলেছে এগুলো কোন সমস্যা নয়। আমার অন্যান্য পরীক্ষা করেও সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে আমি অভুলেট, ইকোসপিরিন,ফলনিড,মাইক্রোজেস্ট আর ১২ তম দিনে ইঞ্জেকশন নিয়েছি। তারপরও কন্সিভ হয়নি।

    • যেহেতু তেমন কোন সমস্যা পাওয়া যায় নি, আপনারা চেষ্টা করতে থাকেন। আর আপনাকে সঠিক ওষুধ দেয়া হয়েছে। অল্প ওভারিয়ান সিস্ট থেকে তেমন অসুবিধা হবার কথা না।

  4. Rubaita Abedin says:

    আমার বিয়ের পর এই রোগটি ধরা পরেছে। বিয়ের ৬মাস পর্যন্ত আমি মারভেলন খেয়েছি। আমার নিয়ম মাফিক শেষ পিরিয়ড ১১ এপ্রিল হয়। ডাক্তার পিরিয়ড হওয়ার ওষুধ দিলে এর ৭ দিনের দিন, ২৭ মে পিরিয়ড হয়। এর পর আমাকে “gaiana” ২১ দিনের জন্য এবং “cobalgol” সপ্তাহে ২টা দেয়। আমি গায়ানা ৯দিন খেয়ে বন্ধ করে দি। শরির খুব খারাপ হয়ে যাই। কোবালগল ঠিক মত খেয়েছি। এর পর আমার ১০ জুন, ২২ জুন এবং ৯ জুলাই পিরিয়ড হয়। প্রতিবার ৬ দিন করে থাকে। আমি ওষুধ বন্ধ করার পর আর ডাক্তারের কাছে যাইনি। এটা কি কোন বড় রোগ? প্রেগনেন্সি তে কি এটা কোন সমস্যা করবে?

    • জী । আপনার প্রেগনেন্সি তে এটি সমস্যা করতে পারে । আপনি একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এবং প্রেস্ক্রাইব ওষুধ সবগুলো সঠিক নিয়মে সেবন করুন। অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন ১৬৪৮৪ এ অথবা ভিসিট করুন http://www.doctorola.com এ । আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করছি।

    • ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। এজন্য অনেক মেয়ের মিসক্যারেজ হয়। আপনি একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত চিকিৎসা করুন। এবং আপনার ওষুধের ডোস কমপ্লিট করবেন । অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে যে কোন মোবাইল থেকে কল করুন ১৬৪৮৪ এ অথবা ভিসিট করুন http://www.doctorola.com এ । আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করছি।

  5. Rupa says:

    আমার বাম পাশের ওভারিতে সিসট আছে ।সেটা 3 সেন্টিমিটার . আমি ঔষধ খেয়েছি আবার ইনজেকশন দিয়েছি 12তম দিনে ।আমার বয়স 30 ,বিয়ে হয়েছে 3 বছর ।কিনতু বাচ্চা হচ্ছে না ।