এইডস নিয়ে বিস্তারিত

blog-pic-115

এইডস একটি সংক্রামক রোগ যা কিনা একজন আক্রান্ত মানুষের থেকে আরেকজন সুস্থ মানুষের মাঝে ছড়ায়। এইডস রোগের জন্য দায়ী এইচআইভি(HIV) নামক একটি ভাইরাস। একজন মানুষ যখন এইচআইভি ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয় তারপরেই সে এইডস নামক মরণব্যাধিতে ধাবিত হয়। Acquired Immune Deficiency Syndrom এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল AIDS যা কিনা ছড়ায়  Human Immunodeficiency Virus(HIV) দিয়ে। এইডসে আক্রান্ত রোগির ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস, ক্যন্সার, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা যে কোন সময় দেখা দিতে পারে।

এইডস এর লক্ষণঃ
১) সঙ্গক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয়ঃ
– মাথা ব্যথা
– জ্বর
– শরীরের বিভিন্ন অংশে র‍্যাশ দেখা দেয়

২) ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হবার পর যেসব উপসর্গ দেখা দেয়ঃ
– জয়েন্ট ফুলে ব্যথা হয়
– ডায়রিয়া
– শরীরের ওজন অনেক কমে যায়

৩) একেবারে শেষ অবস্থায় যেসব উপসর্গ দেখা যায়ঃ
– জ্বর হয় অনেক এবং সাথে অনেক সময় কাপুনি ও দেখা যায়
– ঘাম হয়
– মাথা ব্যথা
– স্পষ্টভাবে দেখতে পায়না
– অনেক সময় মুখ বেকে যায়
– জিহবা বেকে যেতে পারে অথবা জিহবাতে সাদা দাগ দেখা যেতে পারে।

কিভাবে এইডস ছড়ায়ঃ
১) এইডস এ আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্যের শরীরে দিলে।
২) এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা সিরিঞ্জ অন্য কেউ ব্যবহার করলে।
৩) শারী্রিক সম্পর্কের মাধ্যমে।
৪) গর্ভবতী মা যদি এইডসে আক্রান্ত হয় তাহলে দুধপানের মাধ্যমে শিশু আক্রান্ত হবে।
৫) এইডস রোগীর কোন অংগ যদি কোন সুস্থ ব্যক্তি তার দেহে স্থাপন করে তাহলে হবে।

কিভাবে এইডস ছড়াও বন্ধ করা যায়ঃ
১) কারো রক্ত শরীরে নেয়ার আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে যে তার রক্তে HIV আছে কিনা।
২) সব সময় নতুন সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
৩) কারো HIV থাকলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো যাবেনা।
৪) HIV তে আক্রান্ত রোগীর ব্যবহার করা ব্রাশ বা অন্য যে কোন কিছু না ব্যবহার করা উচিত।
৫) গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে যত্ন নিতে হবে নিয়মিত।
৬) এইডস রোগির কোন অংগ নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করা যাবেনা।

এইডসে আক্রান্ত রোগিরা কিভাবে জীবন পরিচালনা করবেঃ
১) ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
২) কোন মেয়ে যদি বুঝে সে HIV তে আক্রান্ত তবে গর্ভধারণ না করা উচিত।
৩) নিয়ম করে ব্যায়াম করা।
৪) ধূমপান না করা।
৫) কোন প্রকার নেশার বস্তু না গ্রহণ করা।
৬) ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করা।

এইডস রোগিদের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা দেখা যায়ঃ
১) যক্ষ্মা
২) নিউমোনিয়া
৩) ভাইরাল হেপাটাইটিস
৪) হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস
৫) ভাইরাল হেপাটাইটিস
৬) ক্রিপটোকক্কাল মেনিনজাইটিস
৭) নন-হডকিনস লিম্ফোমা

তাছাড়া খুব তাড়াতাড়ি এদের ওজন কমে যায়। অনেক সময় এদের শেষ পরিনতি হয় মৃত্যূ দিয়ে। এইডস রোগিদের সাথে আর দশটা মানুষের মতই সাধারণ ব্যবহার করা উচিত সকলের।পরিবারের সকল সদস্যের উইচত এদের পর্যাপ্ত পরিমান সময় দেয়া কারণ এরা নিজেরাই মানসিক যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত দিন কাটায়।তাদেরকে সব সময় সকলেরই উচিত হাসি-খুশি রাখা।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

 দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.