ডেঙ্গু রোগ কীভাবে হয় এবং এর প্রতিকারে করণীয়

Blog pic-95

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত জ্বর। এডিস নামক মশার কামড়ে ডেঙ্গু নামক ভাইরাস থেকে এই জ্বর হয়ে থাকে, একারণে একে ডেঙ্গু জ্বর বলা হয়ে থাকে। বর্ষাকাল ডেঙ্গু জ্বরের জন্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন সময়, কারণ এই সময়ে এই রোগের বাহক এডিস মশারজন্ম বিস্তার সবচেয়ে বেশি হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকারভেদঃ

ডেঙ্গু জ্বর তিন প্রকার। যথাঃ

১। সাধারণডেঙ্গু জ্বরঃ যা বেশিরভাগ মানুষের হয়ে থাকে।

২। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ( রক্তক্ষরণ সহ) জ্বরঃ ১-২% রোগীর এটি হয়ে পারে,চিকিৎসা পেলেও মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে এ রোগে।

৩। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমঃ অত্যন্ত মারাত্নক অবস্থা, মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ %।

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ সমূহঃ

সংক্রমনকারী মশার কামড়েরগড়ে ৩ থেকে ১৪ দিনের মাঝে এই জ্বর হয়।

ডেঙ্গুর লক্ষণ সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ

  • হঠাৎ করে তীব্র জ্বর।
  • একটানা জ্বর, ১০১ ডিগ্রীর নিচেসাধারণত নামে না।
  • চোখের চারপাশে, শরীরের গিরায় গিরায় ও মাংসপেশীতেপ্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথা এতই তীব্র যে একে হাড় ভাঙ্গার সাথে তুলনা করা হয়।
  • সারা শরীরে লাল লাল দানা / র‍্যাশ দেখা দেয়া।
  • ক্ষুধা মন্দা, বমি বমি ভাব।

অসুস্থতা ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তবে অনেক সময় সুস্থ হতে ১ মাসের অধিক সময় লাগতে পারে।

কখন বুঝবেন ডেঙ্গু মারাত্নক আকার ধারণ করছেঃ

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এর উপসর্গ হচ্ছে-

  • তীব্র পেটে ব্যথা।
  • অনবরত বমি।
  • স্বাভাবিকের নিচে শরীরের তাপমাত্রা নেমে যাওয়া।
  • দুর্বল নাড়ি/ পালস।
  • রক্ত চাপ কমে যাওয়া।

ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়ঃ

রোগের উপসর্গ দেখে সন্দেহ করা হয় এটি ডেঙ্গু জ্বর। এর পর রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি ডেঙ্গু জ্বর। জ্বরের ৪-৫ দিনের মধ্যে রক্তের অণুচক্রিকা অথবা প্ল্যাটিলেট কমে যেতে থাকলে সন্দেহ করা হয় এটি হেমোরেজিক ডেঙ্গু।

 ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসাঃ

  • ডেঙ্গু জ্বরের নিজস্ব কোন কার্যকর চিকিৎসা নেই। উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।
  • জ্বরের জন্যে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে, তবে কোন অবস্থাতেই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।
  • জ্বর কমানোর জন্যে ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছাতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানিশরবত, ডাবের পানি ও তরল জাতীয় খাবার দিতে হবে।
  • মুখে খেতে না পারলে স্যালাইন দিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের পরিরোধঃ

এডিস মশার বিস্তার রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার অনেকটাই রোধ করা যায়।

  • এডিস মশার প্রজননের জন্যে পছন্দের জায়গা পরিষ্কার জমানো পানি, যেমন ফুলদানি, ডাবের খোলা, অব্যবহৃত টায়ার ইত্যাদি। তাই এসব জিনিস সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা।
  • ঘরের আশা পাশে কোথায় যেন ৪-৫ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা।

মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষার মাধ্যমেও রোগ থেকে বাঁচা যায়। তার জন্যে করনীয়ঃ

  • মশারী টানিয়ে বা কোয়েল জ্বালিয়ে ঘুমানো।
  • দিনের বেলা শরীর ডেকে রাখার জন্যে ফুল হাতা জামাকাপড় পরা।
  • ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারীর মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কোন মশা কামড়াতে না পারে।

ডেঙ্গু জ্বর থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা। আর এই রোগের জীবননাশী হয়ে ওঠার আগেই চাই চিকিৎসা গ্রহন। তাই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই চিকিৎসকের মরামর্শ নিন।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।
 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.