Not Available Date for this Advertisement

জলাতঙ্ক

Blog pic-87

জলাতঙ্ক মূলত একটি ভাইরাসজনিত মরণব্যাধি। এর ইংরেজী নাম র‌্যাবিস। এটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ ‘পাগলামী করা’। জলাতঙ্ক আক্রান্ত পশু বা রোগীর আচরণ থেকেই এই নামকরণের সূত্রপাত। সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বেজি, বানর, চিকা ইত্যাদি গরম রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীই জলাতঙ্কের বাহক।জলাতঙ্ক আক্রান্ত যে কোন প্রাণীর কামড়,আচড় এমনকি এদের লেহনেও জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে। বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগের মূল কারণ জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর।এ রোগের লক্ষণ জল দেখলেই ভয় পাওয়া,জল খাওয়া বা পান করার সময় খাদ্য নালীর উর্ধভাগের মাংসপেশীতে ব্যথাসহ তীব্র সংকোচন হতে পারে। এ জন্যই এর নাম জলাতঙ্ক। এই জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে কুকুর এবং মানুষ উভয়েরই মৃত্যু অনিবার্য।তিনি জানান, একটু সচেতন হলেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

জলাতঙ্ক রোগ ও এর লক্ষণ
সর্ব প্রথমে বলি যে জলাতঙ্ক (Hydrophobia) এই রোগটির জন্য দায়ী Rabis নামক এক প্রকার ভাইরাস।এই ভাইরাস টি যখন কোন কুকুর বা ক্যানিস গোত্রের প্রাণীর মধ্যে প্রবেশ করে তখন প্রাণীটি কিছুদিনের মধ্যে তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ প্রাণীটি পাগলা হয়ে যায়। এবার যদি এই প্রাণীটি কোন মানুষকে কামড়ায় তাহলে ভাইরাসটি সেই ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে ও বিভিন্ন অস্বাভাবিক লক্ষণের প্রকাশ ঘটায়।যেমন-পেটে ব্যথা,স্নান করতে অনীহা ভাব,জ্বর,শরীরের পেশী টান,অতিরিক্ত থুতু বের হওয়া এবং এর প্রধান লক্ষণ হল জল বা কোন তরল দেখে আতঙ্কিত হওয়া।

জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর লক্ষণঃ আক্রান্ত প্রাণী উম্মাদের মতো সবাইকে এবং সব কিছু কামড়ানোর প্রবনতা, উদ্দেশহীন ভাবে ছোটাছুটি করা, মুখ থেকে অত্যধিক লালা নিঃসৃত হওয়া, ঘন ঘন ঘেউ ঘেউ বা বিড় বিড় শব্দ করা। এক পর্যায়ে গলার মাংস পেশিতে পক্ষাঘাত হওয়াতে ঘেউ ঘেউ করতে না পারা, হাপ টেনে শ্বাস নেওয়া। ক্ষেত্র বিশেষে এমন রোগের আক্রান্ত প্রানীর মধ্যে উত্তেজনা ভাব প্রকাশ না পেয়ে চুপচাপ থাকতে পারে এবং গৃহের এক কোনে ঘুমায় অনেক দিনের আক্রান্ত হলে।

রোগটি সুপ্তাবস্থায় মানুষের শরীরে থাকে এক মাস থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। আতে আক্রান্ত মানুষ অন্য আক্রান্ত প্রানির মতো অন্য মানুষকে কামরাতে চায়, পানি দেখলে ভয় পায়, পানি পান করতে পারেনা এবং শ্বাস কষ্ট হয়,মুখ থেকে লালা পড়ে।

জলাতঙ্ক আক্রান্ত মানুষের লক্ষণ
#  কামড়ের জায়গায় ব্যথা ও চিনিচিন করে;
#  জ্বর, ঢোক গিলতে ব্যথা ও খিঁচুনি হয়;
#  পানি খেতে চায় না, পানি দেখলে ভয় পায়;
#  খুব ঘন চটচটে লালা ঝরে;
#  শান্ত থাকতে থাকতে হঠাৎ রেগে যায়;
#  পরে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং পক্ষাঘাত দেখা দেয়।

কুকুর কামড়ানোর ১০ দিন পর (সাধারণত ৩ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে) জলাতঙ্কের প্রথম লক্ষণগুলো দেখা দেয়৷ লক্ষণ প্রকাশের পূর্বে চিকিৎসা শুরু করতে হবে৷

জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের লক্ষণঃ
জলাতঙ্ক রোগে কোনো কুকুর আক্রান্ত হলে পাগলের মতো আচরণ করা শুরু করে;
সামনে মানুষ বা পশু যাকেই পায় তাকেই কামড়াতে চেষ্টা করে;
সর্বক্ষণ ঘেউ ঘেউ করে;
মুখ দিয়ে লালা পড়ে (লালার সাথে জীবাণু নির্গত হয়);
কুকুরটি খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং কয়েক দিনের মধ্যে মারা যায়;
কুকুর বা অন্য কোনো পশু কামড়ালে দিশেহারা না হয়ে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পর্যবেক্ষণ করা উচিত;

প্রতিরোধ
পোষা কুকুর-বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া উচিত;
যাদের (পশুডাক্তার, পশুব্যবসায়ী, পশুপালক) পশু কামড়ানোর সম্ভাবনা বেশি তাদের আগেই টিকা নেওয়া উচিত;
জলাতঙ্ক রোগাক্রান্ত প্রাণী কামড় দিলে বা সন্দেহ হলে টিকা নিতে হবে এবং কামড়ানোর স্থানটি দ্রুত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে  এবং দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে;
ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন;

জলাতঙ্ক নিয়ে ভয় নেই ১৪ ইঞ্জেকশনের দিনও শেষ

এ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন রাবিপোর
কুকুর কামড়ালে নাভির চারদিকে চরম কষ্টদায়ক সেই ১৪ ইঞ্জেকশন দেয়ার দিন আর এখন নেই। নেই তিন থেকে দশ হাজার টাকা মূল্যের দুর্লভ সেই ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য পৌরসভায় দৌঁড়ঝাপ আর তদবির করার দিনও। কুকুরে কামড়ানো মানুষের পেটে কুকুরের বাচ্চা হওয়ার গুজবও নেই, আতঙ্ক নেই জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু যাতনারও। দেশের ৬৪টি জেলাতেই এখন খুব সহজে বিনামূল্যেই পাওয়া যাচ্ছে কুকুর কামড়ানোর সেই দুর্লভ এ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন-‘রাবিপোর’। এ যেন এখন অনেকটাই ‘ডালভাত’। প্রয়োজন শুধু একজন চিকিৎসকের একটি প্রেসক্রিপশন। অথচ মাত্র ক’বছর আগেও কুকুরে কামড়ানো রোগী ও তার অভিভাবককে এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ নিয়ে কতটাই না ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে! মজার বিষয়, চিকিৎসা সেবায় বর্তমান সরকারের এ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও নগর-বন্দরের অনেক সচেতন মানুষ এখনও জানেন না সরকারের এই সাফল্যের কথা। তাই তো কুকুর কামড়ালে এখনও তারা ছুটছেন মেডিক্যাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পৌরসভায়।

কী করবেন
#  যেসব প্রাণীর আঁচড় বা কামড়ে জলাতঙ্ক হয়, যেমন-কুকুর, বিড়াল, শেয়াল প্রভৃতি থেকে সাবধান থাকা এবং তাদের সংস্পর্শে না আসা। বিশেষ করে বাচ্চাদের দূরে রাখা।
#  গৃহপালিত কুকুর-বিড়ালকে নিয়মিত টিকা দেওয়া।
#   রাস্তায় বেওয়ারিশ ও টিকা না দেওয়া কুকুর-বিড়াল মেরে ফেলার ব্যবস্থা করা।
#    কুকুরে না কামড়ালেও আগে থেকে টিকা দেওয়া যায়। ০, ৭, ২১ অথবা ২৮তম দিনে তিন থেকে চারটি টিকা দিতে হবে। টিকা দেওয়ার প্রথম দিনকে ‘০’ ধরতে হবে। সবাই এ টিকা নিতে পারে।
#    কুকুর কামড়ালে ক্ষতস্থান সাবান পানি দিয়ে অন্তত ১০ মিনিট ধরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দিতে হবে পভিডন আয়োডিন। ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ, কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে কখনো ঢাকা যাবে না।
#   জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে এমন কুকুর বা অন্য পশু কামড় বা আঁচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে টিকা নেওয়া উচিত। ০, ৩, ৭, ১৪ ও ২৮তম দিনে টিকা দিতে হয়। আগে বলা হতো, কোনো কুকুর কামড়ালে সেই কুকুরকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং ১০ দিনের মধ্যে কুকুরটি মারা না গেলে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এখন সে ধারণা সত্য নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৫০০ জন জলাতঙ্ক রোগীর মধ্যে গবেষণা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৭৫ জনের ক্ষেত্রেই দায়ী কুকুরগুলো দীর্ঘদিন জীবিত ছিল। তা ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ কুকুরও জলাতঙ্কের জীবাণু বয়ে বেড়াতে পারে। বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ সুস্থ পাঁচটি কুকুর মেরে সেগুলোর মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখেছেন, প্রতিটির মধ্যে ‘নেগরি-বডি’ রয়েছে, যা ভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণ করে। সুতরাং বাইরে থেকে আপাত সুস্থ দেখতে কুকুরের মধ্যেও জলাতঙ্কের জীবাণু থাকতে পারে। তাই কুকুরে কামড়ালে দেরি না করে টিকা নেওয়া উচিত।

সুত্রঃ জাতীয় মহিলা সংস্থা
ডা. আবু সাঈদ শিমুল, চিকিৎসা কর্মকর্তা, পোটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।
 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.