পুরুষের বন্ধাত্ব

blog-pic-194

প্রাচীন কাল থেকে আমাদের সমাজের একটি অন্যতম ভুল ধারনা বন্ধ্যাত্ব যেন শুধুমাত্র নারীর কারনেই হয়। পুরুষ সন্তান লাভের আশার একাধিক বিয়ে করে থাকেন, অথচ তারা জানেনই না, সেই দম্পত্তির সন্তান না হবার জন্য সেই পুরুষই দায়ি! জি , সন্তান না হবার জন্যে নারীর পাশাপাশি পুরুষও সমান দায়ী, আর বর্তমানে আমাদের সমাজের অন্যতম এক মাথাব্যথার কারন এই পুরুষের বন্ধ্যাত্ব। আজ পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আসুন জেনে নেই কিছু কথা।

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কেন হয়ঃ
প্রজননের জন্যে পুরুষের শরীর থেকে আসে শুক্রানু । পুরুষের শুক্রানু আর নারীর ডিম্বানুর মিলনেই নারী গর্ভধারন করে। আর পুরুষের শুক্রানুকে সেই ডিম্বানুকে নিষিক্তকরন ও গর্ভধারন এর  উপযুক্ত হতে কিছু বিষয় মেনে চলতে হয় । যেমন –
১। শুক্রানুকে হতে হয় সুস্থ ও সবল
২। নির্দিষ্ট পরিমান শুক্রানু থাকতে হয় প্রতি মিলি লিটার সিমেন বা বীর্যে
৩ । শুক্রানুকে স্বাভাবিক গঠনের হতে হয়
৪। শুক্রানুর চলাচল ক্ষমতা বা মোটাইলিটি থাকতে হয়

বন্ধ্যাত্বের কিছু অসুখজনিত কারনঃ
১। ইনফেকশন / সংক্রমণ
২। অকাল বীর্যপাত
৩। ক্রোমসমের সমস্যা
৪।  টিউমার
৫। শুক্রাশয়ের জন্মগত ত্রুটি
৬ । অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
৭। কোন কোন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বন্ধ্যাত্বের পরিবেশগত কারনঃ
১।  কল কারখানার রাসায়নিকের সংষ্পর্শ
২। ভারী ধাতব বিষক্রিয়তা
৩। রেডিয়েশন / এক্স রে’র সংষ্পর্শ

বন্ধ্যাত্বের ঝুকিসমূহঃ
১। ধুমপান
২। এলকোহল পান
৩। অতিরিক্ত ওজন
৪। বিষক্রিয়া হয়েহে এমন রোগী
৫। রেডিয়েশন নিয়েছেন এমন রোগী

কিভাবে নিশ্চিত হবেন বন্ধাত্বের জন্যে পুরুষ দায়ীঃ
সিমেন এনালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা যায় পুরুষের বন্ধাত্বের কারন । এছাড়াও আল্ট্রাসনোগ্রাম , হরমোন পরীক্ষা , জেনেটিস টেস্ট ইত্যাদির মাধ্যমে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব  নির্নয় করা যায় ।

কোন ডাক্তার দেখাবেনঃ
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের  জন্যে ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্টিকে দেখাতে পারেন। তবে আমাদের দেশে অধিকাংশ সময়ই গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ নারীর বন্ধ্যাত্বের কারন নির্ণয় করতে যেয়ে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব রোগটি ধরে থাকেন। এছাড়াও অনেক সময় চর্ম ও যৌণ রোগ বিশেষজ্ঞ পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিয়েও কাজ করে থাকেন।

চিকিৎসাঃ
রোগের কারন নির্ণয় করার পর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারন করা হয়, যেমনঃ
– সার্জারী
– হরমোন থেরাপি
– সংক্রমণ থেকে আরোগ্য , ইত্যাদি
সবশেষে বলা যায়, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব একটি জটিল বিষয়।  প্রতিটি নিঃসন্তান দম্পতির উচিত স্বামী স্ত্রী দুজনেরই প্রয়োজনীয়  পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। তাহলে পুরুষের বন্ধ্যত্ব রোগটি ধরা পড়বে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে  তারা সন্তান ধারনে সক্ষম হবে।

ডক্টরোলা ব্লাড ডোনার ডাটাবেজে রক্তদাতা হিসেবে সাইন আপ করুন, লিঙ্কঃ https://goo.gl/qe9pSi

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.