রক্তস্বল্পতা নিয়ে বিস্তারিত

blog-pic-182

রক্তস্বল্পতা কি?
রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়া কোনো অসুখ নয়। এটি অসুখের পূর্ব লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। রক্তস্বল্পতা মানে রক্ত কমে যাওয়া নয় বরং রক্তের উপাদান লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলেই রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১৪-১৬ গ্রাম/ডি এল থাকে। যদি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যায় তবে এই ঘাটতিকে রক্তস্বল্পতা বলা হয়। হার্ট রক্ত পাম্প করার মাধ্যমে সারা শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার অর্ধেকে নেমে আসলে একই পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হার্টকে দ্বিগুণ পরিমাণ রক্ত পাম্প করতে হয়। রক্তস্বল্পতার ফলে হার্টের কাজের চাপ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। রক্তস্বল্পতার মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে হার্টের কর্মতৎপরতাও ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে হার্টের মধ্যকার বিভিন্ন গঠনগত এবং পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে থাকে। তবে একটা নির্দিষ্ট অবস্থার পরে হার্ট প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত (অক্সিজেন) সরবরাহে ব্যর্থ হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের ব্যর্থতাকে হার্ট ফেইলুর বলা হয়।

রক্তস্বল্পতার লক্ষনঃ
সামান্য পরিমাণ রক্তস্বল্পতায় তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। রক্তস্বল্পতা প্রকট হলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে-
# অবসাদ, দুর্বলতা, ক্লান্তি
# বুক ধড়ফড় করা
# স্বল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট
# মাথা ঝিমঝিম করা
# চোখে ঝাপসা লাগা
# মাথা ব্যথা করা
# হাতে পায়ে ঝিনঝিন করা, অবশভাব হওয়া
# হাত, পা, সমস্ত শরীর ফ্যাকাশে হয়ে আসা

এছাড়া লৌহের অভাবজনিত কারণে রক্তস্বল্পতা হলে-
# অস্বাভাবিক খাদ্যের প্রতি আসক্তি জমায়
# মুখের কোণায় ঘা হয়
# জিহ্বায় ঘা বা প্রদাহ
# খাদ্য গিলতে অসুবিধা
# নখের ভঙ্গুরতা ও চামচের মতো আকৃতির নখ হয়ে যাওয়া

রক্তস্বল্পতার কারন ও প্রতিকার
– কারনঃ
# অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ যেমন অতিমাত্রায় ঋতুস্রাব হওয়া, পাইলস থেকে প্রচুর রক্তপাত হওয়া, অনেক দিন যাবৎ আলসারজনিত রোগে ভোগা, বাত বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার জন্য ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ নিয়মিত সেবন করা অথবা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যার জন্য প্রায় সময়ই স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন করা।
# রক্ত উৎপাদন হ্রাস হলে।
# অপুষ্টি, রক্ত রোগ বিশেষ করে ব্লাড ক্যান্সার, কিডনির অসুস্থতা, ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি অথবা রেডিওথেরাপির মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা, ডায়াবেটিস, বৃহদান্তের প্রদাহ ইত্যাদি।

– প্রতিকারঃ
নিচে উল্লেখিত কিছু খাবার শরীরে রক্তস্বল্পতা দূর করে।
# আনারঃ আয়রন এবং ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। এটি দেহে রক্তসঞ্চালের পরিমাণ বাড়ায় এবং এটি ঝিমুনি ভাব, দুর্বলতা, অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত অন্তত একটি আনার খাওয়া উচিত।
# টমেটোঃ ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। দেহের আয়রনকে শোষণ করতে ভিটামিন সি ভালো কাজ করে।
# পালং শাকঃ এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ই, বি৯, সি। এ ছাড়া রয়েছে আয়রন, আঁশ ও বেটা কেরোটিন।
# সয়াবিনঃ সয়াবিনে রয়েছে উচ্চমাত্রায় আয়রন এবং ভিটামিন।
# ডিমঃ ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। রক্তস্বল্পতা কমিয়ে শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে ডিম খুব উপকারী। ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে আয়রন। এটি শরীরে লোহিত রক্তের পরিমাণ বাড়ায়।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

3 Comments

  1. খুব ভাল কিছু জানিয়েছেন ।জাজাকা আল্লাহ্

  2. hasib says:

    I like it….