Not Available Date for this Advertisement

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

Maleria

-ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস Doctorola.com স্বাস্থ্য তথ্য-

::: বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস :::

ম্যালেরিয়া একটি জীবন সংহারী পরজীবীবাহী রোগ । অ্যানোফিলিস নামক মশার কামড়ে এই রোগটি ছড়িয়ে থাকে । প্রতিবছর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করে থাকে ।  এই মৃত্যুহার কমানোর লক্ষে প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে । এই বছর এই দিবসে প্রতিপাদ্য  ঠিক হয়েছে , চিরতরে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করুন।

ম্যালেরিয়া কিভাবে হয় ?

প্লাসমোডিয়াম প্রজাতির পরজীবী আক্রান্ত স্ত্রী অ্যানোফিলিস  মশা যখন কোন মানুষকে কামড় দেয় তখন প্লাসমোডিয়াম মানুষের রক্তের মাধম্যে ছড়িয়ে যায় , এটি লিভারে যেয়ে বাসা বাধে ও  বংশ বিস্তার করে ।  মানুষের রক্তের লোহিত কনিকাএ ধ্বংস করাই এই প্লাসমোডিয়ামের প্রধান কাজ।  প্লাসমোডিয়ামের কতগুলো প্রজাতি রয়েছে । যেমন , প্লাসমোডিয়াম ফালসিপেরাম ,পাস্লমোডিয়াম ম্যালেরি , প্লাসমোডিয়াম ভাইব্যক্স । এর মধ্যে ফ্যালসিপ্যারাম প্রজাতি বাংলাদেশের ম্যালেরিয়ার জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী ।

কারা বেশি ঝুকিতে আছে?

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা যেমন বান্দরবান , রাঙামাটি , খাগগাছড়ি ম্যালেরিয়ার জন্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন । এই সব অঞ্চলে বসবাস করা মানুষ, পর্যটক ও সেনা সদস্যারা ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সবচেয়ে বড় ঝুকিতে রয়েছে ।

ম্যালেরিয়ার উপসর্গঃ

সাধারন / জটিলতা ছাড়া ম্যালেরিয়ার লক্ষন –

– নির্দিষ্ট সময় পর পর তীব্র  জ্বর আসা

– তীব্র শীত লাগা

– কাপুনিসহ জ্বর

– জয়েন্টে ব্যথা

– বমি হওয়া

 

মারাত্নক ম্যালেরিয়ার লক্ষন-

জটিলতা ধারন করলে ম্যালেরিয়ার নিচের লক্ষন সমূহ দেখা যেতে পারে –

– রক্তশুন্যতা

– কিডনি বৈকল্য

– জন্ডিস

– শ্বাস কষ্ট

– খিচুনি

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

ম্যালেরিয়া প্রবন এলাকায় থাকা অবস্থায় জর আসলে বা সেই সব এলাকা ঘুরে আসার এক বছরের মধ্যে জ্বর আসলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

ম্যালেরিয়া কিভাবে সনাক্ত করা হয়ঃ সাধারন রক্তের মাইক্রোস্কপিক পরীক্ষা ও ব্লাড ফিল্ম পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া সনাক্ত করা যায়।

ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসাঃ

ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসার জন্যে বিভিন্ন রকম ওষূধ ব্যবহার হয়ে থাকে। কয়েকটি ওষুধের কম্বিনেশন  ব্যবহার হয়ে থাকে ।  পূর্বে ক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার হত। বর্তমানে আর্টেমিসিন বেসড কম্বিনেশন থেরাপি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুয়াযী সাধারন ম্যালেরিয়াতে ব্যবহার হয় ।

ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধঃ

কথায় আছে , প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ শ্রেয় । ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিরোধ এর ভুমিকা এই রোগে মৃত্যুহার কমানোর জন্যে সবচেয়ে জরুরী। ম্যালেরিয়া যেহেতু একটু মশাবাহিত রোগ, সুতরাং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের সর্বপ্রধান উপায়, মশার বংশ বিস্তার রোধ এবং মশার কামর থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

কিভাবে করবেন –

– বাড়ির বাইরে ডোবা নালা পরিষ্কার রাখা

-নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার

– ময়লা পানি জমতে না দেয়া ( ম্যালেরিয়ার জীবানু ময়লা পানিতে ডীম পাড়ে )

– মশারী ব্যবহার

– ম্যালেরিয়া প্রবন একালায় বেড়াতে যাওয়ার আগে ও পরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খাওয়া

যেহেতু ম্যালেরিয়া একটি মারাত্নক রোগ , এই রোগে রোগীর মৃত্যুহার কমাতে সাধারনের সচেতনাই সবচেয়ে জরুরী । তাই ম্যালেরিয়ার লক্ষন দেখা মাত্র দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।
 
দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।

Comments are closed.